অমূল্য এক দলিলের কথা

মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.)

সম্পাদনা/লেখক: আব্দুল্লাহ আল মামুন
একটি জাতিরাষ্ট্রের জন্ম, বেড়ে ওঠা এবং উন্নতি, সমৃদ্ধির জন্য বহু প্রকার উপাদানের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে যে রাষ্ট্রের শিকড় যত শক্ত ও বিস্তৃত হয়, সে রাষ্ট্রের জন্য চলার পথের অবশ্যম্ভাবী ঝড়ঝাপটা সামাল দেওয়া ততটাই সহজ হয়। জন্মের শিকড় অনেক অনেক শক্তিশালী বলেই দীর্ঘ সামরিক শাসনের প্রচণ্ড নিষ্পেষণ এবং দিশাহীন-নিশানাহীন অবস্থা ও জাঁতাকল থেকে গাত্রোত্থান শুধু নয়, ৫২ বছরের মাথায় এক বিশাল সম্ভাবনাময় দেশের কাতারে উঠতে পেরেছে বাংলাদেশ। অথচ মনে পড়ে, পৃথিবীর বড় এক বুদ্ধিজীবী ও ভূ-রাজনৈতিক বিশারদ হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, বাংলাদেশের কোনো ভবিষ্যত্ নেই।

কিন্তু আজ সে কথা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কী সেই জোর, কী সেই শিকড়। সেটি নিয়েই আজকের লেখা। 

পাকিস্তান সেনাবাহিনী একতরফাভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

শুরু হয় আমাদের স্বাধীনতা আর পাকিস্তানিদের দখলদারি বজায় রাখার যুদ্ধ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ১৬ দিনের মাথায় রচিত ও ঘোষিত হয় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা। যেসব দেশ দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আর কেউ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র তৈরি করতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রও স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি তৈরি করেছে যুদ্ধ শুরুর এক বছরেরও অধিক সময় পর, যেখানে বাংলাদেশ তা করেছে মাত্র ১৬ দিনের মাথায়। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র এখন শুধু আমাদের নয়, বৈশ্বিক অঙ্গনে রাজনীতি নিয়ে অধ্যয়নরত ছাত্রদের জন্য হতে পারে আকর্ষণীয় পাঠ্য ও গবেষণার বিষয়। ১৫০(২) অনুচ্ছেদের অংশ ও সপ্তম তফসিল হিসেবে এটি এখন বাংলাদেশের সংবিধানেরও অংশ। 

অমূল্য এক দলিলের কথাএকটু দেখে নিই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে কী ছিল। কী প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির কারণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, তার ব্যাখ্যা ঘোষণাপত্রের প্রথম ছয়টি স্তবকে দেওয়া হয়।

শুরুতে বলা হয়, ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর এবং ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল ওই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা পাকিস্তানের জন্য একটি সংবিধান তৈরি করবেন। নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত ১৬৯ আসনের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ ১৬৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করে। উল্লেখ্য, এর মধ্য দিয়ে সর্বপাকিস্তানের জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এবং সরকার গঠনের ন্যায্য ও আইনগত অধিকার পায়। তৃতীয় স্তবকে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সংবিধান রচনার জন্য ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের ৩ তারিখে জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন। কিন্তু হঠাত্ করেই একতরফা ও অবৈধভাবে জাতীয় সংসদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্তবক দুটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াদা রক্ষা করার পরিবর্তে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বিশ্বাসঘাতকের মতো বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ অবৈধ যুদ্ধ ঘোষণা করে। ষষ্ঠ স্তবকে বলা হয়, পাকিস্তানের বিশ্বাসঘাতকতার কারণেই সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং স্বাধীনতা ও জাতীয় অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশের মানুষকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে আহ্বান জানান। 

জাতির ক্রান্তিলগ্নে সুপরিচিত ও জাতীয়ভাবে স্বীকৃত এবং বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্য ও জ্ঞাত, একেবারে বিতর্কহীন নির্বাচনে জনম্যান্ডেটপ্রাপ্ত নেতৃত্বের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উপরোক্ত ঘোষণা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজনমত বিপুলভাবে বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উপলব্ধির সৃষ্টি হয় যে অত্যন্ত অন্যায়ভাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। বিশ্বমিডিয়ায় ব্যাপক সাড়া পড়ে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সব সাংবাদিক বাংলাদেশের ভেতরের খবর সংগ্রহের জন্য ঝাঁকে ঝাঁকে কলকাতায় এসে জড়ো হতে থাকেন। শ্রদ্ধাভাজন প্রয়াত আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর ভাষ্য মতে, নবগঠিত বাংলাদেশ সরকারের কার্যালয় কলকাতার থিয়েটার রোডে বিদেশি সাংবাদিকদের সামাল দেওয়া সে এক কঠিন কাজ হয়ে পড়ে। বৈশ্বিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো পাকিস্তানের বর্বরতা ও গণহত্যার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ওঠে। পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ শরণার্থীর জন্য মানবিক সাহায্য অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আসতে থাকে। সর্বোপরি বাংলাদেশ বলে নতুন একটি রাষ্ট্রের নাম বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যা ঘটে তা হলো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি সঠিকভাবে পৌঁছে যাওয়ায় ভারতের জন্য বাংলাদেশকে সব ধরনের সমর্থন, সহযোগিতা ও সাহায্য প্রদানের কাজটি অনেক সহজ হয়ে যায়, যা ছিল ওই সময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য অতি অপরিহার্য। ভারত তাত্ক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারকে আর্থিক থেকে শুরু করে প্রচার-প্রপাগান্ডাসহ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শুধু প্রশিক্ষণ নয়, শুধু অস্ত্র-গোলাবারুদই নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা ও নিয়মতান্ত্রিক যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের সব রকম সামরিক অপারেশনাল সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। একটি দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় প্রতিবেশী কোনো দেশের পক্ষ থেকে এত দ্রুত সামরিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসার ঘটনা বিশ্বের ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই। পরের ঘটনা আরো নজিরবিহীন যে ভারতীয় সেনারা আমাদের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাংলাদেশের ধানক্ষেতে, পাটক্ষেতে, নদীর কূলে জীবন উৎসর্গ করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও ক্ষেত্রটি বঙ্গবন্ধু দীর্ঘদিন ধরে তৈরি করেছেন এবং তার ওপর ভিত্তি করে তাজউদ্দীন আহমদসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি এত দ্রুত, সময়োপযুক্ত, মানানসই ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন করতে পেরেছিলেন বলেই দ্রুত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহানুভূতিপ্রাপ্তি ঘটে এবং তার সূত্রেই ভারতের পক্ষে অতি দ্রুত সব সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি প্রবাসী সরকারের জন্য অস্থায়ী সংবিধান হিসেবে কাজ করে। প্রথম ছয়টি স্তবকের পর আরো কয়েকটি স্তবক আছে। এতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর গণহত্যার উল্লেখসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এরই মধ্যে শুরু হয়ে যাওয়া প্রতিরোধ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বের কথা তুলে ধরা হয়। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কথা পুনরুল্লেখপূর্বক আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

যুদ্ধ কিভাবে পরিচালিত হবে এবং সামরিক-বেসামরিক প্রশাসনের পরিচালনা সম্পর্কিত সব কিছু পরবর্তী স্তবকগুলোতে উল্লেখ করা হয়; যার জন্য বলা হয়, যুদ্ধের পুরো সময়ে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটিই বাংলাদেশের সংবিধান হিসেবে কাজ করে, যা একটু আগেই উল্লেখ করেছি। শেষের দিকে এসে ঘোষণা করা হয়, বাংলাদেশ জাতিসংঘের সব বিধি-বিধান মেনে চলবে। তার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা ও দায়বদ্ধতার জায়গাটিও নিশ্চিত হয়। পরিশেষে বলা হয়, এই ঘোষণাটি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য করা হবে।

এবার প্রাসঙ্গিক অন্য কিছু ঘটনার উল্লেখ করি। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর পাকিস্তানি সেনাদের হাতে বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হন। এর আগে তাজউদ্দীন আহমদসহ আওয়ামী লীগের সব সিনিয়র নেতা ও যুবনেতাদের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সব ধরনের ব্রিফিং দেন বঙ্গবন্ধু এবং আত্মগোপনে গিয়ে যথাস্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার নির্দেশ দেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ মোতাবেক নেতারা নিজ নিজ সুবিধামতো সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভারতে গমন করেন। তাজউদ্দীন আহমদ ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে চুয়াডাঙ্গা হয়ে ভারতের বিএসএফের সহায়তায় ৩০ মার্চ কলকাতায় পৌঁছেন। একটি ট্রান্সপোর্ট বিমানে করে বিএসএফের আঞ্চলিক প্রধান গোলক মজুমদার ১ এপ্রিল দিবাগত রাতে তাজউদ্দীন আহমদ ও ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলামকে দিল্লি নিয়ে যান। এপ্রিলের ৪ ও ৫ তারিখে দুইবার তাজউদ্দীন আহমদ দিল্লিতে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন এবং অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। বস্তুত এরপর তাজউদ্দীন আহমদ একটি শক্তিশালী দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশকে মুক্ত করার অন্যতম উপাদান বৃহত্ প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সর্বপ্রকার সাহায্য ও সহযোগিতার ব্যাপারে পরিপূর্ণ আশ্বস্ত হয়ে সরকার গঠনের যাবতীয় আয়োজনে অগ্রসর হন।

দিল্লিতে বসেই তাজউদ্দীন আহমদ সরকারের সম্ভাব্য কাঠামোও ঠিক করে ফেলেন। ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম এবং দিল্লিতে তখন অবস্থানকারী বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে তাজউদ্দীন আহমদ সরকার গঠনের মৌলিক কিছু নীতিনির্ধারণ এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রসহ আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খসড়া প্রণয়ন করেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রের নামকরণ, আদর্শ, পররাষ্ট্রনীতি এবং বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক নির্ধারণ করেন। এসব নির্ধারণে গাইডলাইন হিসেবে ১৯৭০ সালের ৪ জুন অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের ঘোষিত নীতি ও দলের গঠনতন্ত্রে স্বীকৃত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতির ক্ষেত্রে গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এবং পররাষ্ট্রনীতির বেলায় জোটনিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। তাজউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে দিল্লিতে বসেই প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ রেকর্ড করা হয় (স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র, ১৫ খণ্ড, পৃ-১০৮ ও ১০৯)। ভাষণটি ১০ এপ্রিল রাত ৯টায় প্রথম আকাশবাণীর একটি কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়, যা পরের দিন ১১ এপ্রিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে পুনঃপ্রচার করা হয় (প্রাগুক্ত, পৃ-১১৪)। নাতিদীর্ঘ ভাষণে তাজউদ্দীন আহমদ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণার প্রেক্ষাপট এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গণহত্যার চিত্র তুলে ধরেন। ন্যায় প্রতিষ্ঠার এই যুদ্ধে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে নিঃশর্ত, নৈতিক, সামরিক এবং অন্যান্য সহযোগিতাদানের আহ্বান জানান। ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, সরকার গঠন এবং ১৭ এপ্রিল সেই সরকারের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে নতুন মাত্রায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয় এবং সে পথ ধরেই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

লেখক : রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক

আরও পড়ুন