বঙ্গবন্ধু হত্যা : পৃথিবীর কান্না

সম্পাদনা/লেখক: ইফতেখার মোহাম্মদ

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালি ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম মানব। তাঁর নেতৃত্বে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের আগে থেকেই তিনি মানবতাবাদী বিশ্ব রাজনৈতিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন। তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ এবং ‘কারাগারের রোজনামচা’ পড়তে পড়তে আপনাআপনি অশ্রুসজল হয়ে ওঠে দু’নয়ন। এ ধরনের এক বিশ্ব রাজনৈতিক যাকে প্রতিটি বাঙালি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করত। মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা ছিল সীমাহীন। তিনি বাংলাদেশের জনগণকে নিজ সন্তানের মতোই ভালোবাসতেন। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টের ‘আপনার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা কী’ এ প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি আমার দেশের মানুষকে ভালোবাসি।’ ডেভিড ফ্রস্টের ‘আপনার বড় দুর্বলতাটা কী’-এ প্রশ্নের উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমি আমার দেশের মানুষকে অতি বেশি ভালোবাসি।’ এ কথার মাধ্যমে জনগণের প্রতি জাতির পিতার অকৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে জনগণের প্রতি বিশ্বাসের বিষয়টিও সুস্পষ্ট। বঙ্গবন্ধুর সমগ্র জীবনটাই ছিল যেন মানুষকে ভালোবাসার। দেশকে ভালোবাসতে হবে, দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে এটা ছিল বঙ্গবন্ধুর জীবনের অন্যতম দর্শন।
বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও বিশ্বের অন্যতম নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর জাতীয়-আন্তর্জাতিক চক্রান্ত প্রতিহত করে ১০৪টি দেশের স্বীকৃতি লাভ এবং ১৯৭৪ সালে সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভ এবং একই সঙ্গে ইসলামিক সম্মেলন সংস্থার সদস্য পদ লাভ করতে বঙ্গবন্ধুর সরকার সমর্থ হয়। ১৯৭৩ সালে কমনওয়েলথ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামের সদস্য পদ লাভ করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুই প্রথম বাঙালি যিনি জাতিসংঘে প্রথম বাংলায় ভাষণ দেন এবং বাংলাকে জাতিসংঘের স্বীকৃত ভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। ভারতের সঙ্গে ২৫ বছরের মৈত্রী ও শান্তিচুক্তি, ফারাক্কার পানিবণ্টন চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য ৪৪ হাজার কিউসেক পানির ব্যবস্থা বঙ্গবন্ধুর বিরাট সাফল্য। মাত্র সাড়ে ৩ বছরে একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বিশ্ব শান্তি পরিষদ কর্তৃক সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর অমূল্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জুলিও কুরি শান্তিপদক প্রাপ্তি আজও সব বাঙালির জন্য গৌরবের।

কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাঁর মৃত্যুতে বাঙালি জাতি হারালো এক মহান নেতাকে। একথা বাঙালিরা অনুভব করতে না পারলেও বিশ্ববাসী তা অনুভব করেছে। বিশ্বসমপ্রদায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর অকাল প্রয়াণের খবর প্রকাশ হওয়ার পর কেঁপে ওঠে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো। মুজিবহীন বাংলাদেশের কথা ভাবতেও পারছিল না কেউ, তাদের কাছে বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধুকে দিয়েই তারা বাংলাদেশকে চিনেছিল। তাই বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুতে দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস লিখেছে, ‘মুজিব না থাকলে বাংলাদেশ কখনোই জন্ম নিত না।’ ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট প্যারিসের বিখ্যাত পত্রিকা লা মঁদ এর প্রথম পাতায় রর্বাঁ এসকারপি নামক এক লেখকের একটি মন্তব্য ছাপায়। তাতে লেখক বলেন, ‘বড় নেতা তিনি যিনি সময়ের সাথে আরও বড় হতে থাকেন। তাকে খুন করে সমাজ থেকে নির্বাসিত করা যায় না। তিনি বারে বারে ফিরে আসেন। সদ্য প্রয়াত শেখ মুজিবুর রহমান সেই মাপের নেতা।’ বঙ্গবন্ধুর হত্যার খবর পাওয়ার পর পশ্চিম জার্মানির পত্রিকায় লেখা হয়, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে চতুর্দশ লুইয়ের সঙ্গে তুলনা করা যায়। তিনি জনগণের কাছে এত জনপ্রিয় ছিলেন যে, লুইয়ের মতো তিনি এ দাবি করতে পারেন, আমিই রাষ্ট্র।’ বিবিসি ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ প্রতিবেদনে উল্লেখ করে, ‘শেখ মুজিব নিহত হলেন তাঁর নিজেরই সেনাবাহিনীর হাতে। অথচ তাঁকে হত্যা করতে পাকিস্তানিরা সংকোচবোধ করেছে’। ১৫ আগস্টের পর লন্ডন থেকে প্রকাশিত ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক শেখ মুজিবের জঘন্য হত্যাকাণ্ডকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে গণ্য করবে। শেখ মুজিব এখনও জনগণের শ্রদ্ধা ও ভালবাসার পাত্র।’ অপরদিকে ভারতের বেতার ‘আকাশ বাণী’ ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট তাদের সংবাদ পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে জানায়, ‘যিশু মারা গেছেন। এখন লক্ষ লক্ষ লোক ক্রুশ ধারণ করে তাঁকে স্মরণ করছেন। মূলত একদিন মুজিবই হবেন যিশুর মতো।’ ১৯৮২ সালের ৫ এপ্রিল টাইম ম্যাগাজিনে বলা হয়, ‘১৫ আাগস্ট অভ্যুত্থান ও শেখ মুজিবের হত্যার পর গণতান্ত্রিক আমলের অবসান হয়।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী বলেন, ‘সারা বিশ্বে শেখ মুজিব একজন জাতীয় মহান নেতা এবং স্টেটসম্যান হিসেবে স্বীকৃত। শেখ মুজিব নিহত হওয়ার খবরে আমি মর্মাহত। তিনি একজন মহান নেতা ছিলেন। তাঁর অনন্য সাধারণ সাহসিকতা এশিয়া ও আফ্রিকার জনগণের জন্য প্রেরণাদায়ক ছিল।’

ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতার স্থপতি ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক ড. আহমেদ সুকর্ণের আদর্শের ভাবশিষ্য সুদানো বলেছিলেন, ‘আমরা ইন্দোনেশিয়ার প্রগতিবাদীরা তাঁর (বঙ্গবন্ধুর) মাঝে আমাদের নেতা সুকর্তকে খুঁজে পেয়েছিলাম। তোমরা তাঁকে মেরে ফেললে? এ ক্ষতি যে কত বড় বাইরের লোকরা তা যত বেশী বুঝতে পেরেছে তোমরা বাঙালিরা তাও পারনি।’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার এই দুঃসংবাদ শোনার পর, বিশ্বব্যাপী বিপ্লবের প্রতীকে পরিণত হওয়া কিউবার নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলেছেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি, বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি। শেখ মুজিবের মৃত্যুতে বিশ্বের শোষিত মানুষ হারালো একজন মহান নেতাকে, আমি হারালাম একজন অকৃত্রিম বিশাল হৃদয়ের বন্ধুকে।’ বৃটিশ লেবার পার্টির এমপি জেমস লামন্ড বলেছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে বাংলাদেশই শুধু এতিম হয়নি, বিশ্ববাসীও হারিয়েছে একজন মহান সন্তানকে।’ ১৯৭১ সালে জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন উইলিব্রান্ট। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এমন অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন একজন বিশ্বনেতাকে তোমরা হত্যা করলে কেন? যাকে ছাড়া বিশ্বনেতারা তোমাদের স্বীকৃতি দিতো না। তার হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্ববাসী তোমাদের জাতিকে আর বিশ্বাস করে না।’ বঙ্গবন্ধুর নিহত হওয়ার খবর শুনে মিশরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘তোমরা আমারই দেওয়া ট্যাঙ্ক দিয়ে আমার বন্ধু মুজিবকে হত্যা করেছ! আমি নিজেই নিজেকে অভিশাপ দিচ্ছি।’ ফিলিস্তিনের অবিসংবাদিত নেতা সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ইয়াসির আরাফাত বলেছিলেন, ‘আপসহীন সংগ্রামী নেতৃত্ব আর কুসুম-কোমল হৃদয় ছিল মুজিব চরিত্রের বৈশিষ্ট্য’। ভারত বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ও বিশিষ্ট সাহিত্যিক নীরদ সি চৌধুরী বাঙালিদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ‘বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি বিশ্বের মানুষের কাছে নিজেদের আত্মঘাতী চরিত্রই তুলে ধরেছে।’ ব্রিটেনের হাউস অব লর্ডস-এর প্রয়াত মানবতাবাদী মনীষী লর্ড ফেন্যার ব্রোকওয়ে বঙ্গবন্ধুকে আরো একধাপ এগিয়ে দেখেছেন। তিনি বলেছেন, ‘জর্জ ওয়াশিংটন, মহাত্মা গান্ধী এবং ডি ভ্যালেরার চেয়েও শেখ মুজিব এক অর্থে বড় নেতা।’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার খবর পেয়ে ইরাকের রাষ্ট্রপতি সাদ্দাম হোসেন সেদিন শোক দিবস পালন করেন। এমনকি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কে জি মোস্তফাকে সেদিনই ইরাক থেকে বের করে দেন। সাদ্দাম হোসেন বলছিলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হচ্ছেন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রথম শহীদ। তাই তিনি অমর।’ জাম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট কেনেথ কাউন্ডা বলেছিলেন, ‘শেখ মুজিবুর রহমান ভিয়েতনামী জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।’ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর প্রসঙ্গে মাহাথির বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সেদিন মালয়েশিয়ার মসজিদেও তার জন্য দোয়া করা হয়। ইসলামের মহান খলিফাদের সঙ্গে যেনো শেখ মুজিবের বেহেশত নসীব করার জন্য দোয়া করেন ইমাম সাহেব। সেদিন শুক্রবার ছিল। মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের মসজিদেও বঙ্গবন্ধুর বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া করা হয়েছে।’

ফ্রান্সের বিখ্যাত সাহিত্যিক আদ্রে মালরো স্বাধীনতার প্রশ্নে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছিলেন। ১৯৭৩ সালে আঁদ্রে মালরোকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচর ডক্টরের প্রদান করে। সে সময়ে তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেছিলেন, ‘স্টালিন নয়, হিটলার নয়, মাও সেতুং নয়, গান্ধী ও শেখ মুজিবুর রহমান। যদি জগৎ এখনো না বুঝে থাকে এঁদের মতের মর্মবাণী, তবে সময় এসেছে এ বিষয়ে দৃষ্টি উন্মোচনের। আর আমি হতে চাচ্ছি এই কর্মেরই শরীক।’ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টিকারী যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি বঙ্গবন্ধুর ব্যাপারে নিজের মুগ্ধতার কথা অকপটে বলেছেন এবং বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টাকারীদের ব্যাপারে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু তোমাকে বলব, পৃথিবীতে দু-শ্রেণির প্রাণী আছে। মনুষ্য প্রাণী ও অমনুষ্য প্রাণী। তোমাদের বাঙালি জাতির ভাগ্য পাল্টাবে কে, যদি তোমাদের মনুষ্য জাতির মধ্যে অমনুষ্য প্রাণীর আধিপত্য প্রবল হয়ে ওঠে। যারা বিশ্বনন্দিত মহামানবসম শেখ মুজিবকে হত্যা করে অহংকার করতে পারে, তারা নরকের কীট।’

২০০৪ সালে বাংলাদেশ সফরে এসে এক সাক্ষাৎকারে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, ‘আফ্রিকার কোটি কোটি কৃষ্ণ মানবের মুক্তিদূত নেলসন ম্যান্ডেলার সমক্ষ তোমাদের নেতা (বঙ্গবন্ধু)। তার অবর্তমানে বাংলাদেশ অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে এবং এতিমের মতো অবহেলা ও অবজ্ঞার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়। জন্মের পরপরই বাংলাদেশ অভিভাবকহীন ও নেতৃত্বহারা হয়ে পড়ায় এই দেশটির যে বিশাল সম্ভাবনা ছিল, তা রুদ্ধ হয়ে পড়ে। তোমাদের জাতির ভাগ্যে এতোবড় ট্রাজেডি দেখে খুব আফসোস হয়। ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০১৫ সালের ০৬ জুন বাংলাদেশ সফরকালে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু একজন বড় মাপের নেতা, তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে আসে।’ ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ সফরকালে বলেন, I salute the brave leader of all times.’ এর আগে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং ২০১৬ সালের ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ সফরকালে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধু বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের হৃদয় জয় করেছে। তিনি কেবল বঙ্গবন্ধু নন তিনি ভুটানেরও বন্ধু। বাঙালি জাতির ইতিহাসের কলংকময় দিন ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবস। আগস্ট মাস এলেই আমরা শোকার্ত হই। পুরো জাতি ভেঙে পড়ে বেদনায়। যেন আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। কিন্তু আমরা শুধু শোকে কাতর হয়ে থাকলে জাতির জনকের আত্মার প্রতি যথার্থ শ্রদ্ধা জানানো হবে না। তাঁর আত্মার শান্তির জন্য তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে বাস্তবে রূপান্তরিত করতে হবে। গবেষকদের মতে, যদি ১৫ আগস্টের ওই নির্মম ঘটনার জন্ম না হতো তাহলে বাংলাদেশ আরও অনেক আগেই উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতো। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পুনরায় বিনির্মাণের কাজ। বর্তমান বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এগিয়ে চলেছে। বঙ্গবন্ধু যে অর্থনৈতিক মুক্তির কথা বারবার বলে গিয়েছিলেন, আজ আমরা সেই মুক্তি অর্জনের পথে। এই এগিয়ে চলায় বাংলা ও বাঙালিকে উদ্দীপিত করেছে বঙ্গবন্ধুর গৌরবোজ্জ্বল জীবন, ইতিহাস ও আদর্শ। যিনি তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে বাঙালি জাতিকে লড়াই করার মন্ত্র ‘জয় বাংলা’ দিয়ে গেছেন। এই মন্ত্র যতোদিন আমরা আঁকড়ে থাকতে পারবো, ততোদিন বাংলাদেশ পথ হারাবে না। দুরন্ত দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলবে বাংলাদেশ।

লেখক : ড. সেলিনা আখতার, প্রফেসর, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, চবি;
সভাপতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি

 

আরও পড়ুন