বাঙালির মুক্তির মহানায়কঃ বঙ্গবন্ধুই বাংলাদেশ

সম্পাদনা/লেখক: আব্দুল্লাহ আল মামুন

বাঙালি বীরের জাতি। বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে এই জাতি। এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে কোনো কিছুতেই হার মানে না তারা। আর বাঙালি জাতি এ শিক্ষা পেয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে। বিশ্ব দরবারে বাঙালিরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে সে স্বপ্নই দেখতেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতা অর্জনের পর মাত্র সাড়ে তিন বছরেই মুক্তির এই মহানায়ক আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন।

কৃষি, শিল্প-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এমনকি আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়তেও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন বঙ্গবন্ধু। সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখা বঙ্গবন্ধুর সেই আধুনিক রাষ্ট্র গড়ার সূত্রগুলো দিয়েই বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে এক বিস্ময়।

১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ বেতার ও টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনা প্রকাশ করে বাঙালি জাতির মুক্তি ও স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘শ্মশান বাংলাকে আমরা সোনার বাংলা করে গড়ে তুলতে চাই। যে বাংলায় আগামী দিনের মায়েরা হাসবে, শিশুরা খেলবে। আমরা শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তুলব। ক্ষেত-খামার কলকারখানায় দেশ গড়ার আন্দোলন গড়ে তুলুন। কাজের মাধ্যমে দেশকে নতুন করে গড়া যায়। আসুন সকলে মিলে সমবেতভাবে আমরা চেষ্টা করি, যাতে সোনার বাংলা আবার হাসে, সোনার বাংলাকে আমরা নতুন করে গড়ে তুলতে পারি।’

বাংলাদেশ এখন বঙ্গবন্ধুর সেই সোনার বাংলার দ্বারপ্রান্তেই। চলতি বছরের জুনে সবকিছু ঠিক থাকলে জাতির আকাক্সিক্ষত পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হতে পারে। রাজধানী ঢাকায় মেট্রোরেলের কাজও শেষ পর্যায়ে। চলছে ঢাকা-গাজীপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ। চট্টগ্রামে কর্ণফুলী টানেল, পায়রা বন্দর, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটসহ বেশকিছু মেগা প্রকল্পের অগ্রসরমাণ বাংলাদেশ এখন বিশ্বে মাথাচাড়া দিয়ে জেগেছে। আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্ন ও পরিকল্পনা অনুযায়ী আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের দিক থেকে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের কাছে রোল মডেল।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ অধ্যাপক প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাচেতনা ছিল সুদূরপ্রসারী। সারাজীবন মানুষের কল্যাণের জন্য সংগ্রাম করে যাওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখতেন একটি সত্যিকারের সোনার বাংলা গড়ার। সে লক্ষ্যেই যুদ্ধ-পরবর্তী খুব অল্প সময়েই আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন তিনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোসহ বৈশ্বিক অঙ্গনে সুসম্পর্ক সৃষ্টির মাধ্যমেও বাংলাদেশকে মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা করার বিষয়েও পরিকল্পনা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানবিক সমাজের দর্শনে বিশ্বাস করতেন। তাই তিনি স্বাধীনতার পর বিশ্বব্যাপী সেই দর্শন ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল দর্শন নির্ধারণ করেছিলেন ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’। বর্তমান সরকারও এই নীতিই অনুসরণ করে চলেছে। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের সুসম্পর্কের মাত্রা দিন দিন বাড়ছেই।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সময়ের আলোকে বলেছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়েও যে আধুনিক রাষ্ট্রের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করা যায় তা কেবল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষেই সম্ভব। যেখানে দেশের ‘কঙ্কালসার’ অবস্থা, সেখানেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন বুনেছিলেন তিনি। এটা বিস্ময়করও বটে। বঙ্গবন্ধুর আধুনিক বাংলাদেশের সেই পরিকল্পনা অনুসারেই বর্তমানে কৃষি, শিল্প, অর্থ-বাণিজ্য এমনকি প্রতিরক্ষা খাতকেও আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ইতিহাস বিশ্লেষণে জানা যায়, ১৯৭২ সালের জানুয়ারি থেকে ১৯৭৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত মাত্র সাড়ে তিন বছর দেশ পরিচালনার সময় পেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই অল্প সময়ের মধ্যেই পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশের স্বকীয় অস্তিত্ব জানান দেন তিনি। জাতিসংঘের মতো জায়গায় দাঁড়িয়ে বিশ্বের নিপীড়িত সব গোষ্ঠীর পক্ষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন বঙ্গবন্ধু। স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ৭০টির বেশি সহযোগিতামূলক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে বঙ্গবন্ধুর সরকার। এ সময়েই বাংলাদেশ ১১৬টি দেশের স্বীকৃতি ও ২৭টি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করে। বর্তমানে সারাবিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে মোট ৮১টি মিশন পরিচালনা করছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ‘বঙ্গবন্ধুর কল্যাণধর্মী উন্নয়ন ভাবনা ও সমকালীন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গ্রন্থে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ছিলেন সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু। বাঙালির আর্থ-সামাজিক মুক্তির জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধুর প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্যই ছিল এদেশের গরিব-দুঃখী মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে তিনি বিরাট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেন। উন্নয়ন দর্শনে তিনি প্রথমেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে উদ্যোগী হন।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, শিল্প-অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়া, প্রযুক্তিগত উন্নয়নসহ বঙ্গবন্ধু নজর দিয়েছিলেন সবদিকেই। বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নের সোনার বাংলায় এরই মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের বৈশিষ্ট্য হিসেবে সর্বজনীন পেনশন সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এমনকি বিগত কয়েক বছরে প্রাকৃতিক নানা দুর্যোগ ও সঙ্কটে বিভিন্ন দেশকে নানা ধরনের সহায়তা দিয়েও পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ফলে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ এখন অদম্য, যেখানে ১৯৭২ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে তাচ্ছিল্য করেছিলেন, সেই বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশে উপনীত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এ প্রসঙ্গে সময়ের আলোকে আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু প্রথমেই শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে কারণে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পরিকল্পনা করে একমুখী করেছিলেন এবং এটা অবৈতনিক করেছিলেন। পরে অষ্টম শ্রেণি থেকে উচ্চশিক্ষা কাঠামো করার জন্য ‘কুদরাত-এ-খুদা’ শিক্ষা কমিশন গঠন করেছিলেন। কিন্তু কিছু বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তাঁর স্বপ্নকেই হত্যা করেছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দায়িত্ব গ্রহণের পর ২০১০ সালে একটি শিক্ষানীতি জাতিকে উপহার দেন। এর মূল কাঠামো শিক্ষা কুদরাত-এ-খুদা কমিশনের আদলেই গঠন করেন। অতিসম্প্রতি এসএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বিভাজন না রেখে একই পাঠক্রম প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সবার জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন। এই সার্বিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পর্যায়ক্রমে শিক্ষাকে আধুনিকীকরণ, যুগোপযোগীকরণের যে প্রক্রিয়া বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিলেন সে পথ ধরেই বর্তমান শিক্ষাপদ্ধতি এগিয়ে যাচ্ছে।

অধ্যাপক ড. আরেফিন সিদ্দিক আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম কাউন্সিলে বলেছিলেন, ‘এই স্বাধীন দেশের কোনো মানুষ যদি অবহেলায় থাকে, অনাহারে থাকে, চিকিৎসার অভাবে থাকে তা হলে আমি শান্তিতে মৃত্যুবরণও করতে পারব না, পারব না, পারব না।’ এ কথা বঙ্গবন্ধু তিনবার বলেছিলেন। বঙ্গবন্ধু সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেই এদেশকে স্বাধীন করেছিলেন। কিন্তু আজকে আমরা দেখছি, ৬০ বছর বয়সের মানুষের পেনশনের কথা, বিধবা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ নানা ধরনের সুবিধা। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেই ১৯৯৬ সালেই বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এসব কাজ করেছেন। এটি মূলত বঙ্গবন্ধুর সেই চিন্তাভাবনা থেকেই করেছেন। একইভাবে বাংলাদেশকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় নিয়ে আসা, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা- এ সবকিছুই বঙ্গবন্ধুর প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা থেকেই এসেছে। তিনি বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পরই দায়িত্ব গ্রহণ করে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনায় বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের নাগরিকদের মাথাপিছু যে আয় বাড়িয়েছিলেন সেটি তদানীন্তন ভারত-পাকিস্তান এমনকি চীনের থেকেও বেশি ছিল। তা হলে বোঝা যায়, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সাম্রাজ্যবাদী শক্তি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কতটা পিছিয়ে দিয়েছে।

গত সশস্ত্র বাহিনী দিবসের (২১ নভেম্বর) অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পরপরই জাতির পিতা একটি উন্নত ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেছিলেন। সে লক্ষ্যে তিনি ১৯৭৪ সালে প্রণয়ন করেছিলেন প্রতিরক্ষানীতি। বঙ্গবন্ধুর প্রতিরক্ষানীতি ১৯৭৪-এর আলোকে বর্তমান সরকার ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বাধীনতার লাভের সময়টাতে বাংলাদেশের প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করত এবং তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ ভাগ মানুষ ছিল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ভূমিহীন কৃষক ও দিনমজুর এবং অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। দক্ষভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র পরিচালনার উদ্দেশ্যে তিনি প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের উদ্যোগ নেন। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য ছিল রাজধানীতে কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা ও সম্পদকে প্রত্যন্ত এলাকায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা, যেখানে স্থানীয় উন্নয়নের কাজ স্বতন্ত্রভাবে চালু থাকবে। সেখানে উন্নয়নের মূল একক হবে গ্রাম। বঙ্গবন্ধুই প্রথম গ্রামের সঙ্গে শহরের ব্যবধান কমিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আজ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামেও দেখা যায় শহরের আধুনিক সব সুব্যবস্থা বিদ্যমান। এ সবকিছুই বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অবদান।

অর্থনৈতিক মূল্যবোধ ও মননর্চচার সামগ্রিক মুক্তির ইঙ্গিত দিয়েই বঙ্গবন্ধুর আধুনিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার মুক্তির সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। আজ উন্নত বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে অনেকটাই সক্ষম বাংলাদেশ। নদীমাতৃক বাংলাদেশে পারাপারে একসময় ব্যবহার হতো বাঁশের সাঁকো বা কাঠের সেতু, সেখানে এখন অত্যাধুনিক উন্নত ব্রিজ, কালভার্ট। যোগাযোগ ক্ষেত্রে জাতির পিতার চিন্তাচেতনা প্রতিফলিত হওয়ায় রাস্তাঘাট, স্থলপথ, নৌপথ, আকাশপথে স্বাধীন দেশের সঙ্গে পৃথিবীর উন্নয়নশীল দেশের যোগাযোগ এখন হাতের মুঠোয়। গার্মেন্টস শিল্প, ওষুধ শিল্প, চা শিল্পসহ বিভিন্ন খাত এখনও বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বাজার সৃষ্টি করেছে। যেখানে এক সময় ঘরের আলো জ্বালাতে কেরোসিনের তেল দিয়ে হারিকেন বা কূপিবাতি ছিল প্রধান ভরসা, সেখানে এখন প্রত্যন্ত বা দুর্গম অঞ্চলের মানুষরাও ভোগ করছে বৈদ্যুতিক আলো। চিঠিপত্র, ই-মেইল, ফ্যাক্স, মোবাইল ব্যাংকিং এখন গ্রামের অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, খেটে খাওয়া মানুষের নাগালে। ৩৬ হাজার কেজি ওজনের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এখন বিশ্বের ৫৭টির একটি হয়ে আকাশমণ্ডলেও স্বতন্ত্র জায়গা করে নিয়েছে। এর মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ, মোবাইল নেটওয়ার্ক, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়-বৃষ্টি, জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কে তথ্য দ্রুত পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়াও দেশের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিশেষায়িতভাবে অভূতপূর্ব উন্নয়নে এখন তাক লেগে যায় সাধারণ মানুষের মধ্যে।

অথচ বাঙালি জাতির দুর্ভাগ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়েছে। সেদিন বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। তবে শেখ মুজিবের আপসহীন এবং ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের সাহসী নেতৃত্ব জনগণের হৃদয়ে অমর স্থান করে নেয়। ২০০৪ সালে বিবিসি কর্তৃক পরিচালিত জনমত জরিপে শেখ মুজিবুর রহমান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে নির্বাচিত হন।

আলমগীর হোসেন
সময়ের আলো, ২ মার্চ, ২০২২, লিঙ্ক

আরও পড়ুন