সাধারণ ক্ষমাপ্রাপ্তদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু

সম্পাদনা/লেখক: আব্দুল্লাহ হারুন জুয়েল

১৯৭৩ সালের এই দিন সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। এই ঘোষণা অনুযায়ী যেসব ব্যক্তি ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ অথবা পরিকল্পিত হত্যার দায়ে অভিযুক্ত অথবা দণ্ডপ্রাপ্ত; তারা ব্যতীত বাংলাদেশে দালাল আইন (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) ১৯৭২ বলে অভিযুক্ত অথবা সাজাপ্রাপ্ত সবাইকে অনতিবিলম্বে মুক্তিদান করা হবে।

১৯৭৩ সালের তৃতীয় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগদানের উদ্দেশ্যে সাধারণ ক্ষমাপ্রাপ্ত সকলকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে মুক্তিদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বরাষ্ট্র দফতরকে নির্দেশ প্রদান করেন। এই দিন রাতে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা উপলক্ষে প্রদত্ত এক বাণীতে বঙ্গবন্ধু সাধারণ ক্ষমার অধীনে মুক্তিযোগ্য সকলকে জাতীয় বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে যোগদান করে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় পবিত্র শপথ গ্রহণের আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধু আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম নস্যাৎ করার জন্য দখলদার বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে আটক কিংবা দণ্ডিত সবাই এখন কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনায় দগ্ধ এবং নিঃসন্দেহে দেশ পুনর্গঠনের সকল সুযোগ গ্রহণে তারা আগ্রহী। বঙ্গবন্ধু বলেন, দালালির অভিযোগে দীর্ঘদিন অন্তরীণ থাকার ফলে এই সকল লোকের পরিবারগুলো নানা অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলেন, তাদের বিষয়ে বিশেষ সহানুভূতির দিকটি বিবেচনা করা হয়েছে এবং যাতে কেউ স্বাধীনতার সুফল ভোগ থেকে বঞ্চিত না হয় সেদিকে লক্ষ রেখে তার সরকার সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে তাদের অবিলম্বে মুক্তিদানের নির্দেশ দিয়েছে।

বঙ্গবন্ধু বাণীতে বলেন, আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে বাংলাদেশের একশ্রেণির লোক তার বিরোধিতা করে দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করে। পরে দালাল আইনে তাদের আটক করা হয়। তাদের অনেকেই দখলদার বাহিনীকে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির গুরুতর দুর্দশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তারা দীর্ঘকাল অন্তরীণ। বঙ্গবন্ধু এই ক্ষমা প্রদর্শনের নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমাপ্রাপ্তদের প্রতি দেশের কল্যাণ ও পুনর্গঠনে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান।

বঙ্গবন্ধুর এই নির্দেশের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মালেক উকিল সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় ৩৭ হাজার অভিযুক্তদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগই এবার ছাড়া পাবে। এদের মধ্যে দখলদার আমলের বেশ কয়েকজন উল্লেখযোগ্য লোক রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘে অন্তর্ভুক্তির আহ্বান

সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারত উপমহাদেশের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার স্বার্থে বাংলাদেশের বাস্তবতার স্বীকার করে নেওয়ার জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পার্টি প্রধান ব্রেজনেভের ভারত সফর শেষে এই দিন উভয় দেশের মধ্যে প্রকাশিত যুক্ত ঘোষণায় উপরোক্ত আহ্বান জানানো হয় বলে বাসস জানায়।

দিল্লি মস্কো যুক্ত ঘোষণা

ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন পারস্পরিক সহযোগিতার সম্প্রসারণ এবং এশিয়ার রাষ্ট্রসমূহের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় করার ব্যাপারে যে আগ্রহের কথা ছিল, সেটা পুনর্বার ঘোষণা করা হয়। সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টি প্রধান লিওনিদ ব্রেজনেভ ১৫ দিনব্যাপী ভারত সফর শেষে ইন্দিরা গান্ধী ও সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টির প্রধানের স্বাক্ষরিত যুক্ত ঘোষণায় উপরোক্ত আগ্রহের কথা প্রকাশ করে। অবশ্য যুক্ত ঘোষণায় সোভিয়েত প্রস্তাবিত যৌথ নিরাপত্তা পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়নি।

ডেইলি অবজারভার, ১ ডিসেম্বর ১৯৭৩ডেইলি অবজারভার, ১ ডিসেম্বর ১৯৭৩

জাপানি অর্থনৈতিক মিশনারির বাংলাদেশ সফর

১৯৭৪ সালের জানুয়ারির শেষ দিকে জাপানের একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অর্থনৈতিক প্রতিনিধি দল সফরে আসবে। ১৯৭৩ সালের এই দিনে জাপানি পার্লামেন্টারি প্রতিনিধি দলের নেতা এই তথ্য প্রকাশ করেন। এই তিন সদস্যবিশিষ্ট জাপানি পার্লামেন্টারি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশে ঢাকা আসেন। দলের নেতা ও জাপানের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির চেয়ারম্যান বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেন, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানি সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে জরিপ করবে।

উদিসা ইসলাম
৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৮:০০ | Source: Bangla Tribune Link

আরও পড়ুন