বঙ্গবন্ধু ’৫২ সালে চীনে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা করেন

সম্পাদনা/লেখক: Zakir Hossain

ভাষা আন্দোলনের পর পরই তরুণ জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালের অক্টোবর মাসে পিস কনফারেন্স অব দ্য এশিয়ান এ্যান্ড প্যাসিফিক রিজিওন্স-এ পাকিস্তান প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে নয়াচীন সফর করেন। তিনি পাকিস্তান শান্তি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে চীন যান। বিশ্বের মোট ৩৭টি দেশ তাতে অংশগ্রহণ করে। তার এই চীন ভ্রমণ সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় সেই সম্মেলনে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা প্রদান।

সেখানে অনেকে ইংরেজীতে বক্তৃতা করলেও তিনি বাংলা ভাষায় বক্তৃতা করেন। এবং তাঁর বাংলা ভাষার এ ভাষণটি ছিল দেশের বাইরে অবাঙালী ভূখণ্ডে প্রথম কোন বাঙালীর বাংলা ভাষণ। সেই ভ্রমণের এক জায়গায় তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেছেন এভাবে-

“আমাদের সভা চলল,বক্তৃতা আর শেষ হয় না। এত বক্তৃতা দেয়ার একটা কারণ ছিল। প্রত্যেক দিন সভায় যে আলোচনা হয় এবং যারা বক্তৃতা করেন তাদের ফটো দিয়ে বুলেটিন বাহির হয়। এই লোভটা অনেকেই সংবরণ করতে পারেন নাই।’

‘আর আমার বক্তৃতা দেয়া ছিল এই জন্য যে, বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দেব।’

আমার দেখা নয়াচীন-শেখ মুজিবুর রহমান (পৃষ্ঠা-৪৪)

তার এই সুদৃঢ় মাতৃভাষা বাংলা প্রতি বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দেয়। আমাদের জন্যও এটি এক অবিস্মরণীয় ঘটনা যে সারা বিশ্বের বিস্ময় হিসেবে আমাদের জাতির পিতাই বাংলা ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্রের জনকের পরিচয়টা তখনই তুলে ধরেন। তিনি প্রমাণ করেন যে জীবনের কোন একটি মুহূর্তে তিনি বাংলা ভাষার কথা ভুলেননি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ২৭শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ কারাগার থেকে মুক্তি পেলেও পাকিস্তান সরকার তার ওপরে সর্বক্ষণিক নজর রাখতেই থাকে। অন্যদিকে এক নাগাড়ে প্রায় আড়াই বছর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিভিন্ন জেলে বন্দী থাকার ফলে তার শরীর একেবারে ভেঙ্গে পড়েছিল। ‘গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাইয়া জনাব শেখ মুজিবুর রহমান তাহার গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করিতেছেন। তাঁহার স্বাস্থ্যের অবস্থা এখনও উদ্বেগজনক। ঢাকায় ছাত্রদের ওপর গুলি চালনা ও ধরপাকড়ের খবরে তিনি অতিশয় মর্মাহত হইয়াছেন। তিনি শহীদদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনকে সমবেদনা জ্ঞাপন করিয়াছেন। জনাব রহমান শীঘ্রই চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসিবেন। আড়াই বছর একটানা কারাবাসের ফলে তাঁহার স্বাস্থ্য একদম ভাঙিয়া পড়িয়াছে।’ তা ছাড়া তিনি হার্টের সমস্যায়ও ভুগছিলেন। জেল থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি বেশ কিছুদিন রক্ত আমাশায় ভুগেছেন। পূর্ববাংলার ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীকে ইংরেজীতে চিঠি লেখেন বঙ্গবন্ধু। অবশ্য পাকিস্তানী গোয়েন্দা দফতর সে চিঠি জব্দ করে। আসলে তিনি ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেয়েছিলেন। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাকে টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাড়িতে এক মাস ২০ দিন অবস্থান করতে হয়েছে।

সরকারী নথিপত্র থেকে জানা যায় যে, তিনি অসুস্থ অবস্থায় শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর নিকট লিখিত পত্রে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তৎকালীন মুসলিম লীগ সরকারের জনবিরোধী কর্মকাণ্ড, সরকার পরিচালনায় ব্যর্থতা ও সরকারের জনবিচ্ছিন্নতা এবং অবিলম্বে ঢাকায় আসার জন্য উদ্বিগ্নতা ইত্যাদি ব্যক্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কর্তৃক লিখিত অথবা মুজিবকে লিখিত পত্রসমূহ গোয়েন্দা বিভাগের নির্দেশে কঠোরভাবে সেন্সর করা হতো। তফাজ্জল হসেন মানিক মিয়ার নিকট ২৮.৩.৫২ তারিখে লিখিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের এরুপ একটি চিঠি (চিঠিটি গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ আটক করেছিল।) থেকে গোয়েন্দা বিভাগ জানতে পারে যে, শেখ মুজিব শীঘ্রই ঢাকায় আসছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আল্লাহর অনুগ্রহে আমি অনেক ভাল। আমার শরীর একটা রোগগৃহ। সে যা হোক আমি অবশ্যই ১৬ তারিখ অথবা তার পূর্বে ঢাকা পৌঁছিব। আমার পুরোপুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।’

এই চিঠি ঢাকার জিপিও থেকে বাজেয়াফত করার পর পরই গোয়েন্দা দফতর তৎপর হয়ে ওঠে। শেখ মুজিব ১৯ এপ্রিল, ১৯৫২ রওনা হয়ে তিন দিনের মাথায় ২১ এপ্রিল, ১৯৫২ ঢাকায় পৌঁছেন। ফরিদপুর থেকে যাত্রা করার সময় থেকে গোয়েন্দা পুলিশ তাকে ঢাকা পর্যন্ত কিভাবে গোপনে অনুসরণ করে তা ফরিদপুরের একজন ডিআইবি অফিসারের রিপোর্ট থেকে জানা যায়। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানী গোয়েন্দা পুলিশের নজরদারি কত কঠোর ছিল, তার একটি নমুনা উপরোক্ত রিপার্ট। এ থেকে এ কথা প্রমাণিত হয় যে, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন সবচেয়ে বিপজ্জনক রাজনৈতিক ব্যক্তি অথবা ভয়ানক শত্রু। ফরিদপুরের একজন ডিআইবি অফিসারের দৃষ্টি উন্মোচনকারী নমুনা : ‘আমি রিপোর্ট করছি যে, সন্দেহভাজন শেখ মুজিবুর রহমান ১৯-৪-৫২ তারিখ সকাল ১১টায় স্টিমারযোগে গোপালগঞ্জ (ফরিদপুর) থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। আমি গোপালগঞ্জের ডিআইওর নির্দেশক্রমে তাকে গোপনে অনুসরণ করি। তিনি ২১-৪-৫২ তারিখ প্রায় সকাল দশটায় নারায়ণগঞ্জ স্টিমার ঘাটে পৌঁছেন। তিনি ইবিডি.২৯২০ নম্বর ট্যাক্সিযোগে স্থান ত্যাগ করেন। আমি ট্যাক্সিযোগে গোপনে তাকে ১৫০ নম্বর মোগলটুলী পর্যন্ত অনুসরণ করি। রাত প্রায় ১১ টায় তিনি মোগলটুলী (ঢাকা) ১৫০ নম্বর (বাড়িতে) প্রবেশ করেন। তখন আমি ২২-৪-৫২ তারিখ সকাল সাতটা পর্যন্ত গোপন নজরদারি করি, সকাল প্রায় সাতটার সময় আমি বিষয়টি যথারীতি আইবি অফিসে জানানোর জন্য ওই স্থান ত্যাগ করি।’ বলার অপেক্ষা রাখে না যে শেখ মুজিবকে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার সব সময়ই কি রকম চোখে চোখে রাখত তার প্রমাণ ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদন। উল্লেখ্য, নজরদারি করা পুলিশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ভাষণের যে অংশটি উল্লেখ করেনি তা ছিল ‘দীর্ঘ আড়াই বছর কারাবাসের পর আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আপনারা যখন ভাষা সংগ্রামে লিপ্ত ছিলেন, আমি তখন কারাগারে অনশনরত। আপনারা সংঘবদ্ধ হোন, মুসলিম লীগের মুখোশ খুলে ফেলুন। এই মুসলিম লীগের অনুগ্রহে মওলানা ভাসানী, অন্ধ আবুল হাশিম ও অন্য কর্মীরা আজ কারাগারে। আমরা বিশৃঙ্খলা চাই না। বাঁচতে চাই, লেখাপড়া করতে চাই। ভাষা চাই…মুসলিম লীগ সরকার আর ‘মর্নিং নিউজ’ গোষ্ঠী ছাড়া প্রত্যেকেই বাংলা ভাষা চায়। এ সম্মেলনে মোট ২২টি প্রস্তাব নেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুর বাংলা ভাষার প্রতি গভীর দরদ অসীম রাজনৈতিক প্রত্যয়ের ফলে শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে সমর্থন করে বিবৃতি দেন। ওই বিবৃতিটি ১৯৫২ সালের ২৯ জুন সাপ্তাহিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৯৫২ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় মওলানা ভাসানীর একটি বিবৃতি প্রকাশিত হয়। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষার পক্ষে শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর মত পরিবর্তনে মুজিব সক্ষম না হলে শুধু ভাষা আন্দোলন নয়- আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ত।’ বঙ্গবন্ধুর মতো দূরদর্শী নেতার পক্ষেই এটা সম্ভব ছিল। বাংলা ভাষা এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর এই অবদান চিরস্মরণীয হয়ে থাকবে।

২৭ এপ্রিল ১৯৫২ তারিখে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের জেলা ও মহকুমা প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আতাউর রহমান খান ওই সভায় সভাপতিত্ব করার সময় অসুস্থতাবশত এক পর্যায়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। এ পর্যায়ে সভাপতির লিখা ভাষণ পাঠ করেন কমরুদ্দীন আহমদ। ওই প্রতিনিধিত্ব সম্মেলনে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫২ সালের পরও বঙ্গবন্ধু বাংলা ভাষাকে ছেড়ে যাননি। ভাষা আন্দোলনের সফলতার পর্বে তার অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদাদান, সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু, সংসদের দৈনন্দিন কার্যাবলী বাংলায় চালু প্রসঙ্গে তিনি আইন সভায় গর্জে ওঠেন এবং মহানায়কের ভূমিকা পালন করেন। (সূত্র : ভালোবাসি মাতৃভাষা-ভাষা-আন্দোলনের ৫০ বছর পূর্তি স্মারকগ্রন্থ-বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, মার্চ ২০০২, পৃঃ ১৮২-১৯১)।

কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা কর্মপরিষদ ৫ ডিসেম্বর ১৯৫২ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে সভা-সমিতির মাধ্যমে বন্দীমুক্তি দিবস হিসেবে প্রতিটি শাখাকে পালনের জন্য সম্পাদক শেখ মুজিব নির্দেশ দেন। ওইদিন ঢাকার আরমানিটোলা ময়দানে বিরাট জনসভা পরিষদের সভাপতি আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শেখ মুজিব বলেন, ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার অপরাধে মওলানা ভাসানীসহ বহুকর্মী বিনাবিচারে জেলে আটক আছেন। ভাষার দাবিতে গুলিগোলা চলে কিংবা এরূপ বন্দী করা হয় এই দুনিয়ার ইতিহাসে এটাই তার প্রথম নজির। তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন ছাড়াও জনতার দাবি নিয়ে যারা সংগ্রাম করছিলেন তাঁদের অনেককে সরকার ইতোপূর্বে বিনাবিচারে আটক রেখেছেন। অবিলম্বে সকল বন্দীকে মুক্তি না দিলে দেশব্যাপী গণআন্দোলন সৃষ্টি হবে। তিনি দেশবাসীর স্বাধীন মতামত প্রকাশের সুযোগ দাবি করেন। উপসংহারে বলেন, ‘মওলানা ভাসানী ও সহকর্মীরা জেলে পচে মরলে আমরা বাইরে থাকতে চাই না।’ ১৯৫৩ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসে যে কর্মসূচী নেয় তা পালনের জন্য আওয়ামী লীগ সম্পাদক শেখ মুজিব নির্দেশ দেন। ওইদিন সকাল থেকে শেখ মুজিবুর রহমান সাইকেলে করে গোটা ঢাকা শহরে টহল দিয়ে বেড়ান এবং মিছিলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। পরে আরমানিটোলা ময়দানে লক্ষাধিক লোকের সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বক্তৃতা দেন। তাঁর অনুরোধে গাজীউল হক নিজের লেখা প্রথম গানটি ‘ভুলবো না’ পরিবেশন করেন। সভায় অন্যান্য স্লোগানের মধ্যে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, গণপরিষদ ভেঙ্গে দাও, সাম্রাজ্যবাদ ধ্বংস হোক’ ইত্যাদি এবং চারটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৫৬ সালের ২৩ মার্চ গৃহীত প্রথম সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। কিন্তু পূর্ববঙ্গ নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় পূর্ব পাকিস্তান। যার বিরুদ্ধে শেখ মুজিব তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে গণপরিষদে জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখেন। ওই বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শহীদ মিনারের পূর্ণাঙ্গ নক্সা তৈরি এবং নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।

বঙ্গবন্ধু বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার জন্য যে আন্দোলন গড়ে তোলেন সেই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য যে কেবল পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠা করা নয় তার চেয়েও বহুগুণ বেশি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হচ্ছে নয়াচীনে বাংলা ভাষায় বক্তৃতা দেয়া। হাজার বছরের ইতিহাসে বাংলাকে আন্তর্জাতিক দরবারে উপস্থাপন করারর জন্য জাতির পিতার এই প্রচেষ্টা কেবল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করার নয় তার চাইতেও হাজার গুণ বেশি। এই ধারাবাহিকতাতেই জাতির পিতা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদেও বাংলায় ভাষণ দেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য স্বাধীনতা পরবর্তীকালেও যেসব উদ্যোগ নেন তা অতুলনীয়।

সেই সময়কার কথাও যদি স্মরণ করা হয় তবে দেখবো যে ৫২ সালের শহীদ দিবস পালন করার জন্য তিনি তার সংগঠনকে ব্যাপকভাবে সংগঠিত করেন। আর তখনই আওয়ামীলীগ প্রকৃতপক্ষে জনগণের বৃহৎ রাজনৈতিক প্লাটফরম হিসেবে গড়ে ওঠতে শুরু করে। আমাদের জাতির পিতাও তার বলিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করতে থাকেন। সেবার বঙ্গবন্ধু তাঁর সাংগঠনিক জেলাগুলোতে চিঠি দিলেন ভাষা শহীদ দিবস পালনের নির্দেশ দিয়ে। কালো পতাকা দেখানো হলো। আব্দুল ওয়াদুদ পাটোয়ারী, আতাউর রহমান,কাজী গোলাম মাহাবুব,শওকত আলী, প্রাওসু সমাদ্দার, সওহার আলী, খন্দকার মোস্তাক, গাজিউল হক, খন্দকার মো. ইলয়াস( সম্পাদক-যুগের দাবী), প্রমুখসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ১৫/২০ হাজার মানুষের মিছিল আরমানিটোলা ময়দানে শেষ হলো, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব তার বক্তৃতায় বললেন- ‘এটা আমাদের ভাষার দাবী নয়, এটা আমাদের বাঁচার দাবী।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর গোয়েন্দা শাখার গোপন নথি, খন্ড-৩, পৃ:৮৬,৮৭

ঢাকা ॥ প্রথম লেখা ২৩ জানুয়ারি ২০২০।

সর্বশেষ সম্পাদনা ২৩ জানুয়ারি ২০২১ ॥

মতামত লেখকের নিজস্ব।

মোস্তাফা জব্বার : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, কলামিস্ট, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান- সাংবাদিক, বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যার-এর জনক ॥

mustafajabbar@gmail.com

www.bijoyekushe.net.bd

www.bijoydigital.com

প্রকাশিতঃ জানুয়ারী ২৫, ২০২১লিঙ্ক

আরও পড়ুন