বঙ্গবন্ধুর দর্শন শক্তি ও নম্রতার সমন্বয়

সম্পাদনা/লেখক: Zakir Hossain

ডিসেম্বর মাস এলেই আমাদের হৃদয় মন্দিরে ঝংকার সৃষ্টি হয়। দুঃখ-বেদনা ও আনন্দের সমন্বিত উচ্ছ্বাসে বাংলার মানুষ লীন হয়ে যায় এক মোহনায়। কেননা এই ডিসেম্বর মাসেই বীর বেশে বিজয় কেতন উড়াতে সক্ষম হই। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় লাভ করলেও কোনো কোনো অঞ্চল শত্রুমুক্ত হয় ডিসেম্বরের শুরুতেই। তবে চূড়ান্ত বিজয়ের দিনটিকেই বিজয় দিবস হিসেবে পালন করে আসছি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কীসের বিজয়, কীসের জন্য বিজয়, কার বিজয়, কেমন বিজয়? এ প্রশ্নগুলোর সহজ সরল সত্য উত্তরের খোঁজে আমরা কখনও সচেষ্ট ছিলাম না। আমাদের রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবীসহ কোনো স্তরের মানুষই বিজয়ের যথার্থ তাৎপর্য অনুধাবন করেছি কী? যদি করতাম তাহলে আমাদের বিজয়ের পঞ্চাশ বছরে পা দিতে গিয়ে শত্রুর আস্ফালন দেখতে হতো না। মূর্তি-ভাস্কর্য কোনো সমস্যা হতো না।

যে মহান নেতার নেতৃত্বে স্বাধীনতার লালসূর্যটি আমাদের হলো তার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও কী দর্শন ছিল তা কী ভেবে দেখেছি? সেই মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে দর্শন ছিল, সেই দর্শনেরই বিজয় হয়েছিল ’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর। কিন্তু আমরা সেই দর্শন থেকে দূরে সরে এসেছি, সে জন্যই বিজয়টা যেন হয়ে যাচ্ছে পানসে। হৃদয়ে ঝংকার যতই উঠুক পানসে ভাবটা কাটিয়ে উঠতে পারছি না সহজে। আজকে আমি বঙ্গবন্ধুর দর্শন নিয়ে কিছু বলতে গিয়ে কলম ধরেছি। এটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত দৃষ্টির আলোকে বিশ্লেষণ। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমার নিজস্ব ভাবনার জগৎ থেকে উৎসারিত উপলব্ধির অনুষজ্ঞ হিসেবেই তুলে ধরতে চাই বিষয়টি। মনে রাখতে হবে যে দর্শন শক্তি ও সমন্বয়ের কথা বলে, সে দর্শনই মানুষের সুউন্নত চারিত্রিক বিকাশের পক্ষে সহায়ক হয়। যে দর্শন একদিকে মানসিক উদারতা এবং অন্যদিকে বিশ্বাস ও দৃঢ়প্রত্যয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের কথা বলে, সে দর্শন যদি আত্মস্থ কিংবা হৃদয়ঙ্গম করতে সক্ষম না হই তবে বিপদ অনিবার্য। বঙ্গবন্ধু এমন এক দর্শন তার রাজনীতির অনুষজ্ঞে উপস্থাপন করেছিলেন, যা একটি জাতির মুক্তির নিশানা স্থির করে দিয়েছিল। কিন্তু সে জাতি ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর আবার ভয়ংকর অস্থিরতায় দিশেহারা হয়ে পড়ে। সে অস্থিরতা থেকে এখনও বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়নি। দুঃখজনক হলেও সত্যি, প্রায় একযুগ ধরে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পরও এ জাতি অস্থিরতায় ভুগছে। এর মূল কারণ হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর দর্শনকে আত্মস্থ করতে না পারা। কীভাবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনকে বাঙালি জাতির হৃদয়ে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হবে সে রকম গঠনমূলক কোনো কর্মতৎপরতা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে সবসময় থেকেছে অনুপস্থিত। শুধু শেখ হাসিনা এককভাবে সে আদর্শের বাণী উচ্চারণ করলেও তা খুব একটা প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছে না। বেশিরভাগ নেতাকর্মী শুধু বঙ্গবন্ধুর নামটি ফেরি করে ব্যবসার প্রসার ঘটালেও আদর্শের প্রসার ঘটাতে ক্রিয়াশীল নয়। এটা একদিকে লজ্জার, অন্যদিকে চরম অপমানের।

আওয়ামী লীগের মধ্যে উঁচুমাপের অনেক নেতা আছেন যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনের গভীরতা সম্পর্কে প্রাজ্ঞবান; কিন্তু তারা গোঁড়া প্রকৃতির। তারা নিজ বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে থাকেন, অন্য সবার সমালোচনা করেন। তাদের মধ্যে উদার দৃষ্টিভঙ্গি ও দৃঢ় বিশ্বাসের সহবস্থান নেই। বঙ্গবন্ধু চাইতেন বাঙালি জাতি হবে সমুদ্রের মতো গভীর আর আকাশের মতো বিস্তৃত। এ চেতনায় রয়েছে বুদ্ধি, উন্নতি ও পূর্ণতা সাধনের নিগূঢ় দর্শন। এরূপ ব্যক্তির যত অভ্যুদয় ঘটবে, দেশের তত উন্নতি ঘটবে। যে দেশে এরূপ লোক একেবারে নেই, সে দেশের পতন অনিবার্য, কিছুতেই তার উদ্ধারের আশা নেই। বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষের উদ্দেশে বলেছেন ‘সৎ হও এবং সত্য উপলব্ধি কর।’ আর তিনি সারা বিশ্বের বলিষ্ঠ যুবকদের বলেছেন ‘তোমরা ত্যাগের মানসিকতায় মানব জাতির কল্যাণের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়। তোমরা মানুষকে ভালোবাসতে শিখ, ‘মুখে মুখে ভালোবাসা নয়, অন্তর দিয়ে ভালোবাস। তোমরা যে মানুষকে সত্যিই ভালোবাস তার প্রমাণ কর।’ কিছু পেতে হলে ত্যাগ করতে হয়। শেখ মুজিব তার রাজনৈতিক জীবনে সামান্যতম ভোগের প্রত্যাশা করেননি। তিনি চাইলে অর্থবিত্ত ও ক্ষমতার মালিক হতে পারতেন। তিনি তা হননি। তিনি চেয়েছেন এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি। সব মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ভয়হীনভাবে বসবাস করতে পারে। স্বাধীনতার পর তিনি যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হন, তখন এদেশের অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি একটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। সেখান থেকে এ জাতিকে উদ্ধারের জন্য নিজস্ব উদ্যোগে কতগুলো কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলতেন ‘ত্যাগ ও প্রত্যাক্ষানুভূতির সময় এসেছে। সেবার মানসিকতা নিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে।’ রাজনীতিতে বিবাদের কোনো প্রয়োজন নেই। এ ছিল বঙ্গবন্ধুর ভাবধারা। আধুনিক বিশ্ব ক্রমাগত পরিবর্তন ও নতুন নতুন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। তার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করে রাজনীতি, অর্থনীতি তথা সবকিছুকেই ক্রিয়াশীল করতে হয়।

আমাদের স্বাধীনতার পর অসামান্য এক দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু দেশ পরিচালনা করতে শুরু করেছিলেন। মানবীয় ক্রমবিকাশ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে তিনি দেশকে দেশের মানুষকে একমঞ্চে আহ্বান করেছিলেন। কিন্তু কেউ কেউ সেটা ভুল বুঝেছিলেন। তিনি মূল্যবোধমুখি মানব সমাজ প্রতিষ্ঠা করে বিশ্বে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, পৃথিবীতে উৎপত্তি হয়েছে আরও অনেক সভ্যতার, তারা তাদের ভূমিকা পালন করেছে কয়েক শতক ধরে, তারপর শুরু হয়েছে পতন, অবশেষে এসেছে মৃত্যু। সে সব সভ্যতার চর্চা করা হয় গ্রন্থে এবং প্রতœতাত্ত্বিক সংগ্রহশালায়। নিজস্ব সভ্যতার একটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কথা তিনি চিন্তা করেছেন। তা তিনি করেছেন আধ্যাত্মিক চেতনার আলোকে। যে সভ্যতা ক্ষণেক্ষণেই হয়ে উঠে নতুনভাবে উজ্জীবিত, তার দেহে আসে নবযৌবনদীপ্ত, আসে প্রচ- শক্তি এবং তার অবস্থার প্রচ- উন্নতি ঘটতে আরম্ভ করে। শুরু হয় একটি নতুন যুগের এবং মানুষের মধ্যে আসে সমুচ্চনৈতিক সচেতনতা, মানবিক আবেগ ও সেবার মনোভাব। এমন চিন্তাযুক্ত দর্শনকে তিনি ধারণ করেছিলেন এবং একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন। এ উপমহাদেশে বঙ্গবন্ধুর মতো অনেক মহান নেতার অভ্যুদয় ঘটেছে, সমাজ মুক্তির লক্ষ্যে আবার আধ্যাত্মিক মহান আচার্যেরও আবির্ভাব ঘটেছে মানব মুুক্তির লক্ষ্যে। মহান আচার্যরা কখনও সংস্কার আন্দোলন শুরু করে দেন না; কারণ এসব আন্দোলন সমাজের বা মানুষের মূল ব্যাধিটিকে নিয়ে কাজ করে না। যেমন শ্রী রামকৃষ্ণ কোনো সংস্কার আন্দোলন শুরু করেননি; কিন্তু তার অনুপ্রেরণায় জন্ম নেবে অনেক সংস্কার আন্দোলন। আসবেন কত সাধু সন্তু, শিল্পী, রাজনীতিক প্রভৃতি। শ্রী রামকৃষ্ণের আগমনের মাধ্যমে মানব সমাজকে প্রদান করা হলো এক মৌলিক আধ্যাত্মিক উদ্দীপনা। আমাদের উপমহাদেশে এটিই ঘটেছে বারবার। ভারতবর্ষ অধগতি দেখেছে, আবার দেখেছে পুনরুত্থান ও পুনর্গঠন। কোনো জাতি বহুদিন বেঁচে থাকলে প্রায়ই তার এ ধরনের শারীরিক ও মানসিক ব্যাধি দেখা দেয়; কিন্তু জাতি আবার নবীন হয়ে উঠে। কোনো মহান আদর্শে উজ্জীবিত মহান রাজনৈতিক নেতার আন্দোলনে। বঙ্গবন্ধু এমনই সংস্কারক ছিলেন যিনি বাঙালি জাতিকে নবীন করে তুলেছিলেন। নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সে স্বপ্নকে আমরা বাঁচিয়ে রেখে এগুতে পারছি কীনা সে আত্মজিজ্ঞাসার সময় এসেছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অনেক উন্নত হয়েছে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে; কিন্তু দেশ প্রেমের অধোগতিতে শংকার কারণও দৃশ্যমান হচ্ছে। উন্নয়ন যতই হোক, দেশ প্রেম না থাকলে উন্নয়ন টেকসই হবে না ইতিহাসে সেটা প্রমাণিত।

অ্যাডওয়ার্ড গিবনের বইটির কথা স্মরণ করা দরকার। রোমান সাম্রাজ্য কীভাবে পতনের মুখে পড়েছিল, বইটিতে এর বিশদ বর্ণনা রয়েছে। রোমান সাম্রাজ্য ছিল বিপুল শক্তিমান অর্থ-বিত্তবৈভবে ভরপুর ছিল। রোমানদের অধীনে ছিল পূর্ব-ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ ইউরোপ এবং উত্তর আফ্রিকা-প্যালেস্টাইন ও ইসরাইল। ধীরে ধীরে এসে গেল অবনতি। কী ছিল তার স্বরূপ? কী করেই বা এল তা? জাতিটা একই ছিল, লোকজন ছিল বুদ্ধিমান; কিন্তু বেড়েছিল লালসাবৃত্তি। বেড়ে যায় সুখভোগের আকাক্সক্ষা। লোকদের মধ্যে দেখা দিল শ্রমসাধ্য কাজের অনীহা। অন্যায়ভাবে রাতারাতি ধনী হওয়ার বাসনায় উন্মুক্ত হয়ে উঠল মানুষ। ব্যবসায়ীরা অতি মুনাফার লোভ সংবরণ করতে ব্যর্থ হলো। সমাজ কল্যাণে কাজ করতে উৎসাহী রইল খুবই অল্প সংখ্যক লোক। রোমান এভাবে অলস হয়ে পড়ল। শুধু সুখের সন্ধানে পাগল প্রায় হয়ে পড়ল। কায়িক শ্রমের কাজগুলো করাতে আরম্ভ করাল ক্রীতদাসদের দিয়ে। সুখ ভোগের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের রুচিবোধ বিকৃত হয়ে গেল। মানুষ পারস্পরিক হিংসায় এবং উদ্দাম, আমোদ, আহ্লাদে মত্ত হয়ে পড়ল। তাদের অ্যাম্ফিথিয়েটার (অসঢ়যরঃযবধঃবৎ) নামক ক্রমোন্নত আসন শ্রেণি গোলাকার মঞ্চ বিশিষ্ট প্রেক্ষাগৃহগুলোতে হিংস্র জানোয়ারের সঙ্গে লড়াই করতে নামিয়ে দেওয়া হত ক্রীতদাসদের; উচ্চপদস্থ সরকারি কর্তাব্যক্তিরা সে দৃশ্য দেখত, আনন্দ উপভোগ করত। যখন একটা সিংহ একটা মানুষকে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলত, তখন কর্তব্যক্তিরা উল্লাসে হর্ষধ্বনি করত। সুরুচি ও মানবিক মূল্যবোধের কোনো বালাই থাকত না। এমন পরিস্থিতিতে যে পতন পর্ব শুরু হয়ে গেছে মানুষ তা বুঝতে পারছিল না। সভ্যতা গড়ে উঠে ধীরে ধীরে আবার পড়েও যায় ধীরে ধীরে। এভাবেই রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে। সামাজিক অস্থিরতা ও এ সব অমানবিক পরিস্থিতিতে বৈদেশিক আক্রমণের সুযোগ তৈরি হয়। রোমান সাম্রাজ্যের সেটাই ঘটেছিল। এ ধরনের পতন ঠেকাতে চাই শক্তি ও নম্রতার দর্শন। যে দর্শন সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন।

কয়েকদিন আগে খাদ্যমন্ত্রী জনাব সাধন চন্দ্র মজুমদারের বাসভবনে গিয়েছিলাম। অত্যন্ত সাদামাটা সহজ সরল মানুষটি খুব আস্তে আস্তে কথা বলেন। রাজনৈতিক নানা কথা প্রসঙ্গে ইউরোপ আমেরিকার সভ্যতার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান পাশ্চাত্য সভ্যতার সাধারণভাবে ইউরোপীয়, আর বিশেষভাবে আমেরিকান সভ্যতার একটা অন্তর্নিহিত মহত্ব আছে। এই পাশ্চাত্য সভ্যতার অবক্ষয় হলে তা হবে মানব জাতির এক বিরাট ক্ষতি।’ জনাব মজুমদারের উপরোক্ত কথার গভীরতা ও তাৎপর্য অপরিসীম। আমি তাকে বিনয়ের সঙ্গে প্রশ্ন করলাম এ অবক্ষয় রোধ করার উপায় কী? উত্তরে তিনি বললেন, ‘বিশ্ব সংস্কৃতির পারস্পরিক আদান-প্রদান। যে সংস্কৃতিগুলোর কথা বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে বলেছেন। তার কন্যা শেখ হাসিনাও একই কথা বলছেন।’ বঙ্গবন্ধুর দর্শন শক্তি ও নম্রতায় ভরা তার বাস্তবায়নই হচ্ছে মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রধান উপায়। জনাব সাধন মজুমদারের কথাগুলো আমাকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। তিনি উঁচুমাপের রাজনীতিবিদ; কিন্তু এতটা উঁচুমাপের সে ধারণা আমার আগে ছিল না। এ উপমহাদেশে মহান রাজনীতিক নেতারা আমাদের মুক্তির সঠিক পথ দেখিয়েছেন লোকমান্যবাল গঙ্গাধরতিলক, সুভাষ চন্দ্র বসু, মতিলাল নেহেরু এসব নেতা যাপন করেছেন মহৎ জীবন। জাতির স্বার্থে তারা ত্যাগ করেছেন অর্থ, শারীরিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য। ঊনবিংশ শতকে এবং বিংশ শতকের প্রথমদিকে উপমহাদেশে ছিলেন এমন সব উদারমনা মানুষ যারা রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দের মতো আধ্যাত্মিক মহাপুরুষের পাশাপাশি। গান্ধীজী ছিলেন প্রচ- এক আধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন মানুষ ঠিক এমনি ধীশক্তি সম্পন্ন উদারমনা ও মানবিক মহাপুরুষ ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য উপেক্ষা করে মানবজাতিগুলোর কল্যাণে ডুবে থাকতেন সারাক্ষণ। যার বজ্রমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে একটি জাতি শক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। গড়ে তুলতে সক্ষম হয় সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশ। কাজেই তার দর্শন ও আদর্শ আত্মস্থ করতে না পারলে রোমান সাম্রাজ্যের পরিণতিই বহন করতে হবে। অতএব, সাবধান।

ফনিন্দ্র সরকার কলাম লেখক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক phani.sarker@gmail.com
Source: Alokito Bangladesh Dated: ০৬ ডিসেম্বর, ২০২০

আরও পড়ুন