মুজিব শতবর্ষঃ শেখ মুজিব থেকে শেখ হাসিনা

সম্পাদনা/লেখক: ইফতেখার মোহাম্মদ

 

‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’এ দুটি নাম, দুটি শব্দ একে অপরের পরিপূরক, যা আজ ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। একটিকে ছাড়া অপরটি যেন মূল্যহীন। পিতা ছাড়া সন্তান যেমন কল্পনা করা যায় না, ঠিক তেমনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়াও বাংলাদেশের কথা কল্পনা করা যায় না। বস্তুতপক্ষে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশ হয়তোবা কোনো এক সময় স্বাধীন হতো ঠিকই; কিন্তু ১৯৭১ সালে যে হতো না, এটা নিশ্চিত। বঙ্গবন্ধুর আগে অনেকেই স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে তা কেউই রূপ দিতে পারেননি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই মহানায়ক, যিনি কিনা এই স্বপ্নকে সত্যতে রূপান্তর করেছেন। বস্তুতপক্ষে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে সমগ্র বাঙালি জাতি আজ স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছে।

বঙ্গবন্ধু সারা জীবন শান্তি, সাম্য, স্বাধীনতা আর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। ছাত্রাবস্থা থেকে তিনি সর্বদা সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। জেল, জুলুম, অত্যাচার আর র্নিযাতন সহ্য করেছেন। ভাষা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, এমনকি জেল পর্যন্ত খেটেছেন। তিনি সারা জীবন স্বচ্ছতা, সমতা আর মেহেনতি মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের জন্য সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধুর ঐন্দ্রজালিক ব্যক্তিত্ব, রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞা আর অতুলনীয় সাংগঠনিক ক্ষমতা নিরীহ বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তাঁর নেতৃত্বে সমগ্র বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে, অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন বাংলাদেশের। বস্তুতপক্ষে স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু যে সংগ্রাম করেছিলেন, তা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য করেননি; বরং তিনি সংগ্রাম করেছিলেন মেহেনতি মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য। ’৪৭-এর দেশভাগের পর থেকেই মূলত তিনি স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি তার সামগ্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছিলেন। তিনি ’৫২-র ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-র যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ’৫৮-র আইয়ুব খানের মার্শাল ল’বিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-র ছয় দফা আন্দোলন, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচনসহ দেশের সব আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

বস্তুতপক্ষে ছয় দফা দাবি কোনো দাবি নয়, বরং তা সমগ্র বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ, যার কারণেই মূলত তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার সামনে তার জ্বালাময়ী ভাষণ পেশ করেছিলেন, যেখানে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ মূলত বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণেই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা আর মুক্তি যে এক নয়, তা বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। ২৫ মার্চের কালরাতে যখন বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা হয়, তার আগে তিনি দেশের মুক্তিকামী জনগণকে স্বাধিকার আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য নির্দেশনা দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সেদিন সমগ্র বাঙালি জাতি অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল। ২৬ মার্চে যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, ১৬ ডিসেম্বর পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে তার সমাপ্তি ঘটে।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরেই তিনি প্রথমে যুদ্ধবিধ্বস্ত এ দেশের রাজনৈতিক দর্শন সম্পর্কে তার বিস্তারিত মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হবে, যার ভিত্তি হবে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষতা।’ তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠনের কাজে সবাইকে নিজ নিজ ক্ষেত্র থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বঙ্গবন্ধু ১২ জানুয়ারি গণপরিষদে শপথ গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণের পর বঙ্গবন্ধু নবগঠিত রাষ্ট্রের পুনর্গঠনের কাজে মনোনিবেশ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, জাতীয় সংসদ আর জুডিশিয়াল সিস্টেমের পুনর্গঠন করেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। সংবিধান গৃহীত হওয়ার প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু গণপরিষদে এক অনন্যসাধারন ভাষণ প্রদান করেছিলেন, যেখানে বঙ্গবন্ধু তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল প্রতিপাদ্য বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন। ওই ভাষণে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের চার মূলনীতির কথা তুলে ধরেন। বস্তুতপক্ষে ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র আর গণতন্ত্রের কথা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংবিধানে উল্লেখ থাকলেও বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নতুনভাবে যে সংজ্ঞা দিয়েছিলেন, তা অন্য কোনো দেশের সংবিধানে নেই। বঙ্গবন্ধু এমন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতেন, যেখানে থাকবে না কোনো ক্ষুধা, দারিদ্র্য, দুর্নীতি, নিরক্ষরতা, অজ্ঞতা আর ধর্মীয় গোঁড়ামি। বঙ্গবন্ধু সেক্যুলারিজমে বিশ্বাস করতেন। তিনি বিশ্বাস করতেন‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।’ তিনি এমন এক বাংলাদেশের প্রত্যাশা করেছিলেন, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান একসঙ্গে বসবাস করবে এবং যার যার ধর্ম তার তার মতো করে নির্ভয়ে-নিঃসংকোচে পালন করবে। তিনি আরও স্বপ্ন দেখতেন বাংলাদেশ একদিন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। তিনিই প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন, যেখানে তিনি কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিল্পের বিকাশ, মানবসম্পদের উন্নয়ন ও সমবায় ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষির উন্নয়নের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উঁচু-নিচু শ্রেণির কর্মচারীদের বেতনবৈষম্য হ্রাস করার জন্য সে সময় ‘স্বাধীন বেতন কমিশন’-এর সুপারিশ করেছিলেন। তিনি দক্ষ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানোর জন্য প্রথম ‘পাঁচশালা’ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, কৃষির উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সুষম উন্নয়ন আর গ্রামের উন্নয়নের মাধ্যমে একমাত্র দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব। তিনি শুধু বাংলাদেশ নয়, বরং সারা পৃথিবীর শান্তির স্বপ্ন দেখতেন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড বানানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন। স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশের সাধারণ জনগণের মুখে হাসি ফোটানোর। তিনি বাংলাদেশ আর বাংলার মেহেনতি মানুষকে নিয়ে আমৃত্যু স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি বলতেন, ‘আমার সবচেয়ে প্রধান শক্তি হলো আমার দেশের জনগণ, আর আমার প্রধান দুর্বলতা হলো আমি তাদের অনেক বেশি ভালোবাসি।’ তিনি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, সমবায় ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে যুগান্তরকারী পরিবর্তন আনতে চেয়েছিলেন। বস্তুতপক্ষে বঙ্গবন্ধু ছিলেন সারা পৃথিবীর শান্তির দূত। তিনি ভালোবাসা দিয়ে সারা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। তিনি বাঙালি জাতিকে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তা যদি অব্যাহত থাকত তাহলে এরই মাঝে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের দরবারে স্থান করে নিতে পারত। বঙ্গবন্ধু বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যও উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন নিপীড়িত মানুষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তিনি সব সময় বলতেন, ‘পৃথিবী আজ দুই ভাগে বিভক্তÑশাসক আর শোষিত। আমি শোষিতের পক্ষে।’ তার রাজনৈতিক মতবাদ ছিল, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও প্রতি বৈরিতা নয়।’ আর এরই মাধ্যমে তিনি সারা পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্ববাসী এতিম হয়ে যায় যখন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। মূলত বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মাধ্যমে সমগ্র বাঙালি জাতির জীবনে এক কালো অধ্যায় নেমে আসে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক, জিয়াউর রহমান, এইচ এম এরশাদ ও খালেদা জিয়া ক্ষময়ায় আসেন আর তারা স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত করতে থাকেন।

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে: : When ‡od closes all the door, somehow He opens the window. বাঙালি জাতির পরম সৌভাগ্য যে বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষা, খাদ্য, কৃষি, নারীর কর্মসংস্থান, দারিদ্র্য বিমোচন, প্রযুক্তির উন্নয়নসহ নানা ধরনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ অভূতপূর্ব সফলতা অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি, ইডিবি, জাইকাসহ সব দাতা সংস্থা বাংলাদেশের সাম্প্রতিককালের উন্নয়ন দেখে এক অর্থে বিস্ময় প্রকাশ করেছে। বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে আজ ‘রোল মডেল’ হিসেবে গণনা করা হচ্ছে। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে দ্বিতীয়, আর খাদ্যে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। দেশে আজ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়েছে। গ্রামের প্রান্তিক জনগণও আজ ব্যাংকিং সুবিধা ভোগ করতে পারছে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের হার ছয় থেকে দুই দশমিক দুই শতাংশে নেমে এসেছে। লিঙ্গবৈষম্য অনেকাংশেই কমে এসেছে। প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীর সমান অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত হয়েছে। ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারি করা হয়েছে। বছরের প্রথম দিনে চার কোটি শিক্ষার্থী নতুন বই হাতে পাচ্ছে। দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় এক হাজার ৯০৯ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দেশের বর্তমান জিডিপি এখন আট দশমিক ১৫ শতাংশ। দারিদ্র্য বিমোচনের হার ২০ দশমিক পাঁচ শতাংশে এ নেমে এসেছে। মানবসম্পদ উন্নয়নের সূচকে বাংলাদেশ আজ ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আগের চেয়ে বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ আজ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছে। এর পাশাপাশি মেট্রো রেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেলসহ বেশ কিছু বৃহৎ প্রকল্প চলমান রয়েছে। দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিশেষত যুবসমাজকে তথ্য ও প্রযুক্তির সেবা প্রদানের জন্য সারা দেশে চার হাজার ৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। চামড়াশিল্পের জন্য সাভারে চামড়াশিল্প নগরী স্থাপন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় হাসপাতালে বেডের সংখ্যা ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বস্তুতপক্ষে বঙ্গবন্ধুর সব স্বপ্নকে একে একে বাস্তবায়ন করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ এরই মধ্যে জাতিসংঘের নির্ধারিত ‘মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল’ অর্জন করেছে এবং আগামীতে ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল’ অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ‘সাউথ-সাউথ’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ‘সোনার বাংলা’ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আজ আর সত্য হতে বেশি দিন বাকি নেই, কারণ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে একে একে পূরণ করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। বস্তুতপক্ষে বঙ্গবন্ধু ছিলেন মুক্তিকামী, নিপীড়িত ও মেহনতি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা। স্বাধীন বাংলাদেশের তিনিই স্থপতি, তিনিই জনক। সময় নির্মাণ করেছে বঙ্গবন্ধুকে, আর বঙ্গবন্ধু নির্মাণ করেছেন বাংলাদেশকে। বহির্বিশ্বে তাই সবাই বাংলাদেশকে ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ নামেই চেনে, ‘বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু’ নামে নয়। বঙ্গবন্ধু আমাদের ভাষা, জাতি, স্বাধীনতা তথা মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তার সবকিছুই এনে দিয়েছেন। যতদিন বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতি থাকবে, ততদিন বঙ্গবন্ধুর নামও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তাই কবি অন্নদাশঙ্কর রায় বলেছিলেন:

‘যতকাল রবে পদ্মা, মেঘনা গৌরী, যমুনা বহমান

ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।’

পরিশেষে, ‘রূপকল্প ২০২১’ ও ‘রূপকল্প ২০৪১’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ তথা ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতামুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ-সমৃদ্ধিশালী দেশ বিনির্মাণই হোক মুজিববর্ষে আমাদের সবার অঙ্গীকার।

লেখকঃ মো. মিজানুর রহমান, সহযোগী সদস্য, দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশ (আইসিএসবি)

দৈনিক শেয়ার বিজ, ১৩ মার্চ ২০২০, ( লিংক )

আরও পড়ুন