সৃজন আঙিনায় লক্ষ্যের অভিমুখে

সম্পাদনা/লেখক: আব্দুল্লাহ আল মামুন

শেখ হাসিনা, যার নাম উচ্চারণে কোনো দ্বিধা থাকে না; কেননা তিনি আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা। বঙ্গবন্ধুর লালিত স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষার উত্তরাধিকার; বঙ্গবন্ধু আমাদের বুকজুড়ে স্বাধীনতার স্বপ্ন অঙ্কুরিত হতে বীজ বপন করেছিলেন; যার তর্জনী নির্দেশে বাঙালি জাতি মৃত্যুকে মূলধন করে ১৯৭১-এ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মহান মুক্তিযুদ্ধে। বাংলার সাত কোটি মানুষ যাঁকে পিতৃজ্ঞানে হৃদয়ে ধারণ করেছিল; ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট যাঁকে হারিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে পিতৃহীন হয়েছে বাংলার সাত কোটি মানুষ। বাঙালির সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর যে আত্মার সম্পর্ক, আমি বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার হিসেবে শেখ হাসিনার সঙ্গেও বাঙালি একই সম্পর্ক অনুভব করে; যে কারণে শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় থাকেন, তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাটাও বড় থাকে।
আমি রাজনীতির মানুষ নই। রাজনীতির মানুষ নিয়ে আমার ভাবনাও কম; কিন্তু বঙ্গবন্ধু থাকেন আমার চেতনায়। তিনি আমাকে স্বাধীনতার স্বাদ দিয়েছেন। আহা! আমার প্রিয় বঙ্গভ‚মি! একদিকে ক্ষুধা-দারিদ্রের মতো নিঃশব্দ শত্রæ তার, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণবাদ-চক্র; একদিকে স্বাধীনতাবিরোধী-চক্র, অন্যদিকে স্বার্থান্বেষী-চক্রের ক্ষমতার লোভ; একদিকে মুক্ত-বাণিজ্যের প্রবল প্রবাহ- উচ্চাভিলাষী শিক্ষিত শ্রেণির সব পাবার মোহ, অন্যদিকে নিরন্ন মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেয়ার সংগ্রাম; একদিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনসহ বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াবার প্রয়াস, অন্যদিকে যে কোনো কর্মসূচিকেই বাতিল করে দেয়ার প্রবল প্রচারণা; এতসব ঝঞ্ঝা-বিক্ষোভের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সাহস নিয়ে এগিয়ে যাবার নাম শেখ হাসিনা। কোথায় পেলেন তিনি সে সাহস? প্রথমত তিনি বঙ্গবন্ধুর মতো সাহসী পিতার সন্তান বঙ্গবন্ধুর উত্তরাধিকার এবং শেষতক তিনি স্বজনহার এক বঙ্গনারী, যিনি তার বাবা-মা-ভাই-আত্মীয়-পরিজন সবাইকে হারিয়ে পেয়েছেন বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা, যে বাঙালি জাতির মধ্যে তিনি আবিষ্কার করেছেন তার স্বজনের মুখ। আকাশের মতো বিশাল-হৃদয় পিতা, যিনি উচ্চারণ করেন ‘আমার প্রথম চিন্তা আমার দেশের জন্য।’ স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছরের শাসনামল যে কোনো বিবেচনার ঊর্ধ্বে; ১৯৭৫-এর পর আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতি-রাষ্ট্রনীতি-আর্থসামাজিক অবস্থা-জনজীবন সব মিলিয়ে শ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে যে সময়টিকে চিহ্নিত করতে পারি, সেটি ১৯৯৬ থেকে ২০০১ শেখ হাসিনার শাসনামল। তার সে সময়কালে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল, দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে ছিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল; সব মিলিয়ে বেশ সুসময়ে কেটেছে আমাদের প্রতিটি দিন; কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনে ভালো ফল আসেনি। নির্বাচন-উত্তরকালে শেখ হাসিনা বলেছিলেন ‘নির্বাচনে সূ² কারচুপি হয়েছে।’ ধারণা করি জননেত্রী শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক জীবনে যত বক্তব্য দিয়েছেন, তার মধ্যে সেদিনের সেই বক্তব্যটি সবচেয়ে মেধাদীপ্ত। বঙ্গবন্ধুকন্যার সেই বক্তব্য নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেছেন; আমি কিন্তু তাকে শ্রদ্ধা করতে শুরু করলাম। আগে ভালোবাসতাম বঙ্গবন্ধুকন্যা হিসেবে; সেদিন থেকে শ্রদ্ধাশীল হলাম রাজনীতিবিদ হিসেবে।
দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ একজন মানুষের কাছে কখনোই দেশের স্বার্থ বিপন্ন হতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরসূরি হিসেবে তিনি পিতার যে গুণগুলোকে উত্তরাধিকার হিসেবে অর্জন করেছেন তার অন্যতম হচ্ছে আবেগ, দেশপ্রেম, স্বজাত্যবোধ, সাহস, সততা এবং মানুষের প্রতি অগাধ বিশ্বাস। যা তার আছে, তাই আমরা তার দলের কর্মী না হয়েও তার মঙ্গল ও সাফল্য কামনায় একাত্ম হই।
বাংলাদেশের মিডিয়ায় ‘পদ্মাসেতু’ নিয়ে যখন প্রচুর আলোচনা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক দুর্নীতির কথা বলে পদ্মাসেতুর জন্য ঋণ বরাদ্দ প্রত্যাহার করেছে। এর মাঝে জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন ‘নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ হবে’। আমি বিশ্বাস করতাম, জননেত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে আমাদের পদ্মাসেতু যদি নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করা হয়, জাতি হিসেবে আমরা বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবো এবং শেখ হাসিনার পক্ষেই এ অসাধ্য সাধন সম্ভব। সেদিন আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার ছিষট্টিতম জন্মবার্ষিকীতে তাকে অভিনন্দন জানাতে আহ্বান করেছিলাম সবাইকে। আমার বিশ্বাস ছিল, আমাদের অঙ্গীকারই হতে পারে ছিষট্টিতম জন্মবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুকন্যার জন্য জাতির শ্রেষ্ঠ উপহার। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করে আমরা বিশ্বব্যাংকের আধিপত্যবাদী চরিত্রের বিপক্ষে প্রতিবাদ জানাতে পারি এবং আমরা যে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি, আমরা যে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য উত্তরসূরি তা প্রমাণ করতে পারি। বঙ্গবন্ধুকন্যার সেই দীপ্ত ঘোষণা যেন আমায় গৌরবান্বিত করেছিল; আমায় একজন বাঙালি হিসেবে সম্মানিত করেছিল; গর্বে আমার বুক ভরে উঠেছিল; তারই প্রেক্ষাপটে ‘বঙ্গবন্ধুকন্যার জন্মদিনে’ শিরোনামে কবিতাটি আমি লিখেছিলাম। আমার মনে হয়েছিল বাঙালির নিজস্ব সংগ্রামের অগ্রনায়ক হিসেবে আমাদের মুক্তির আন্দোলন এবং আত্মসম্মান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা হবেন আমাদের দিশারি। সেদিনের সে কবিতাটি পাঠ করেই শেখ হাসিনার সৃজন আঙিনায় প্রবেশ করতে চাই।
আমরা যদি একনজরে শেখ হাসিনার রচনাবলীর দিকে দৃষ্টি দেই দেখব তার অধিকাংশ রচনাই সাধারণ-বঞ্চিত মানুষের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে লেখা। আমার আশ্রয় শেখ হাসিনা রচনাসমগ্র-১ ও ২। প্রথম খণ্ডে আছে ওরা টোকাই কেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য দূরীকরণ : কিছু চিন্তাভাবনা, বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্যে উন্নয়ন ও বিপন্ন গণতন্ত্র লাঞ্ছিত মানবতা; দ্বিতীয় খণ্ডে আছে সহে না মানবতার অবমাননা, সাদা কালো এবং অপ্রকাশিত রচনা। মোট পাঁচটি গ্রন্থের সমন্বয়ে প্রকাশিত দুই খণ্ডের দুটি বইয়ে এক বছরের ব্যবধানে নাতিদীর্ঘ মুখবন্ধ লিখেছেন শামসুজ্জামান খান। দুই খণ্ডের মুখবন্ধই অভিন্ন; কেবল দ্বিতীয় খণ্ডে ছোট্ট একটা অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। যা হোক শামসুজ্জামান খানের মুখবন্ধ আমার আলোচ্য নয়; আমি শেখ হাসিনার রচনায় সীমাবদ্ধ থাকতে চাই।
পাঁচ গ্রন্থের সমন্বয়ে দুই খণ্ডের রচনা সমগ্রের সবই প্রায় রাজনৈতিক রচনা। অবশ্য সেটা হওয়াই সঙ্গত। জীবন যেমন রাজনীতিকে বাদ দিয়ে নয়, তেমনি রাজনীতিও জীবনকে পাশ কাটিয়ে নয়। আর আওয়ামী লীগের মতো বড় একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে তার রচনায় রাজনৈতিক অনুষঙ্গ থাকবে সেটাই তো যৌক্তিক। দেখবার বিষয় যখন তিনি বঞ্চিত-নির্যাতিত মানুষের কথা লিখছেন, যখন দারিদ্র্য বিমোচনের কথা লিখছেন; অথবা যখন মানবতার অবমাননার কথা লিখছেন; তখন তিনি কতটা সত্যনিষ্ঠ-কতটা আন্তরিক? তার রচনায় কিছু ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ আছে; তার মহান পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কথা আছে, মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কথা; তার শৈশব-কৈশোরের প্রসঙ্গ আছে; আছে নিজ গ্রামের সৌন্দর্য বর্ণনা; দেখবার বিষয় সেখানে তিনি কতটা উদার-অকপট। কতটা গভীরতা তার দেখার দৃষ্টিতে; এবং এভাবেই একজন সৃষ্টিশীল মানুষের শিল্প চেতনার অনুসন্ধান করা যেতে পারে। সেভাবেই আমি আবিষ্কার করতে চাই, তাকে পাঠ করে জানতে চেয়েছি, একজন সার্বক্ষণিক রাজনীতিক হয়েও জননেত্রী শেখ হাসিনা তার নির্মাণশৈলী ও সৃজন কুশলতায় কতটা নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে পারলেন? একজন লেখক হিসেবে তাঁর পাঠকের কাছাকাছি কতটা পৌঁছাতে পারলেন?
যখন তিনি লিখেন “নদীর পাড় ঘেঁষে কাশবন, ধান-পাট-আখ ক্ষেত, সারিসারি খেজুর, তাল-নারকেল-আমলকী গাছ, বাঁশ-কলাগাছের ঝাড়, বুনো লতা-পাতার জংলা, সবুজ ঘন ঘাসের চিকন লম্বা লম্বা সতেজ ডগা। শালিক-চড়ুই পাখিদের কল-কাকলি, ক্লান্ত দুপুরে ঘুঘুর ডাক। সব মিলিয়ে ভালোবাসার এক টুকরো ছবি যেন। আশ্বিনের এক সোনালি রোদ্দুর ছড়ানো দুপুরে এ টুঙ্গিপাড়া গ্রামে আমার জন্ম। গ্রামের ছায়ায় ঘেরা, মায়ায় ভরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্ত নিরিবিলি পরিবেশ এবং সরল-সাধারণ জীবনের মাধুর্যের মধ্য দিয়ে আমি বড় হয়ে উঠি।” (স্মৃতির দখিন দুয়ার \ ওরা টোকাই কেন) কী অসাধারণ সারল্য আর অকপট মুগ্ধতায় বুনন করেছেন এক একটি পঙ্ক্তি! নিপুণ ছবির মতো চিত্রময়! একই রচনার অন্যত্র তিনি বলছেন “আমার শৈশবের স্বপ্ন-রঙিন দিনগুলো কেটেছে গ্রাম-বাংলার নরম পলিমাটিতে, বর্ষার কাদা-পানিতে, শীতের মিষ্টি রোদ্দুরে, ঘাসফুল আর পাতায় পাতায় শিশিরের ঘ্রাণ নিয়ে, জোনাক-জ্বলা অন্ধকারে ঝিঁঝির ডাক শুনে, তাল-তমালের ঝোপে বৈচি, দিঘীর শাপলা আর শিউলি বকুল কুড়িয়ে মালা গেঁথে, ধুলোমাটি মেখে, বর্ষায় ভিজে খেলা করে।” ক’টি মাত্র পঙ্ক্তি কত সহজেই পাঠককে স্মৃতিকাতর করে তোলে! এখানেই তো একজন যোগ্য লেখকের সফলতা। এমনি আরো চমৎকার চিত্রকল্পের সন্ধান আমি দিতেই পারি; কিন্তু রচনার কলেবর সংক্ষিপ্তকরণের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ মনে করি; আমার দায়িত্ব সবটা বলা নয়; বরং ইঙ্গিতের মাধ্যমে জানান দেয়া যিনি আগ্রহী হবেন, তিনি নিজ দায়িত্বে খুঁজে পড়ে জেনে নেবেন সব।
এবার আসি ভিন্ন প্রসঙ্গে; শেখ হাসিনা যখন তার রচনায় বঞ্চিত-নির্যাতিত মানুষের কথা লিখছেন, যখন দারিদ্র্য বিমোচনের কথা লিখছেন, যখন তিনি বঞ্চিত-নির্যাতিত মানুষের দুর্ভাগ্যের কথা লিখছেন; সেখানে প্রতিটি পঙ্ক্তিতে দেখি আবেগ-ঔদার্য আর আন্তরিকতার মাখামাখি। শেখ হাসিনা যখন লিখেন “সারাদিন পরিশ্রম করলে হাতে একজন দিনমজুর পায় ৩০ টাকা। সন্ধ্যায় এ ৩০ টাকা দিয়ে চাল কিনবে, ঘরে ফিরবে, ভাত রান্না হবে, পরিবারের সকলে একসাথে ভাত খাবে।…………মাছ-তরকারি তো তাদের কাছে স্বপ্ন। বরং শাকপাতা পেলেই মনে করে যথেষ্ট। পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত এ তো বরাদ্দ। পরের দিন যদি কাজ না পায় তাহলে পুরো পরিবার অনাহারে থাকবে।” (দারিদ্র্য দূরীকরণ : কিছু চিন্তাভাবনা)। কত সহজে পাঠকের মনের পর্দায় ভেসে ওঠে বাঙালির দরদী নেতা বঙ্গবন্ধুর মুখ। আবার যখন তিনি লিখেন “অভাব-অনটন দারুণ প্রভাব ফেলে সমাজের ওপর, রাষ্ট্রের ওপর; যার ফলে মানুষ প্রতি পদে পদে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। জীবনের ন্যূনতম চাহিদা আহার, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা, কাজের সুযোগ মানুষ পাচ্ছে না।………. এখানে সামাজিকভাবে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য প্রকট, নির্যাতন বেশি। রাষ্ট্রীয়ভাবেও শোষণ রয়েছে। আমাদের সংবিধান প্রদত্ত অধিকার থেকেও মানুষ বঞ্চিত।
বাঙালি কবি চণ্ডীদাস বলেছেন, ‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।’ আজ স্রষ্টার শ্রেষ্ঠ সে মানুষ হচ্ছে বঞ্চিত, শোষিত ও অবহেলিত।’ (সবার উপরে মানুষ সত্য \ দারিদ্র্য দূরীকরণ: কিছু চিন্তাভাবনা)।
এভাবেই একজন সৃষ্টিশীল লেখক তার লেখায় মানুষকে স্বপ্ন দেখতে প্রাণিত করেন। বঞ্চিত মানুষ আশ্রয় ভাবতে শুরু করে সেই লেখককে; যখন লেখক একাধারে লেখক এবং রাষ্ট্রনায়কও।
জননেত্রী শেখ হাসিনার লেখা বইগুলো পড়ে উপসংহার টানতে চাই এভাবে; দুই খণ্ডে প্রকাশিত বইগুলোর রচনাকাল দেখে সহজেই বুঝতে পারি, যখন তিনি বইগুলো রচনা করেন, তখন তিনি বিরোধী দলের নেতা। অনেক ষড়যন্ত্র-প্রতিবন্ধকতার দেয়াল পেরিয়ে তিনি আজ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন; পদ্মাসেতু, উড়ালসেতু, মেট্রোরেল, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণ করে ইতোমধ্যেই বাংলার মানুষের মনে তার ওপর আস্থা ও বিশ্বাস এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছে; মানুষ জানে, বিরোধী দলের নেত্রী হিসেবে তিনি তার ভালোবাসা আর ঔদার্যে দুঃখী-বঞ্চিত মানুষের বুকে যে স্বপ্ন এঁকেছেন আজ তা দৃশ্যমান হয়ে উঠবে জাতির সামনে। সৃষ্টিশীল একজন মানুষ তার কালো হরফে লেখা অঙ্গীকারের কথা বিস্মৃত হতে পারেন না। সৃজনশীল মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে জননেত্রী এবং সংবেদনশীল লেখক শেখ হাসিনার কাছে আমারও প্রত্যাশা; তিনি বাঙালির দিশারি বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে জাতিকে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ দেখাবেন; কখনোই ‘কনক প্রদীপ জ্বালিয়ে’ কেবল নিজেকে আলোকিত করতে গিয়ে অসহায় দরিদ্র বাঙালি জাতির ভাগ্য পোড়াবেন না; আগে যেমনটি আমরা দেখেছি! নিশ্চয়ই মানুষের প্রতি তার নিরঙ্কুশ ভালোবাসা বিজয়ী হবে! সাহসী পিতার যে স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি যে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তা সফল হবে। সত্য কখনো পরাজিত হয় না। যা কিছু হিতের সঙ্গে থাকে, তা-ই তো সাহিত্য; হিতের সঙ্গে কল্যাণের পথে আপনার যাত্রা লক্ষ্যে পৌঁছাবে অচিরেই। জয় বাংলা।

ফরিদ আহমদ দুলাল
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০ লিংক

আরও পড়ুন