মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রাসেল

সম্পাদনা/লেখক: আব্দুল্লাহ আল মামুন

যদিও আমার বয়স মাত্র ৯ বছর তারপরও আমি বুঝতে পারছি, যদি শেখ রাসেলকে তার মা যাওয়ার অনুমতি দিতেন তিনি কতোই না সৌভাগ্যবান হতেন। ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে যখন সবাই তাকে ‘সারপ্রাইজ’ দিত তখন শেখ রাসেলের চোখে মুখে আনন্দ দেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও কতটা সুখী হতেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘শেখ পরিবার’-এর প্রথম সন্তান অন্যদিকে শেখ রাসেল সর্বকনিষ্ঠ। শেখ হাসিনা জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর। আর ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ঢাকার ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনে শেখ রাসেলের জন্ম। শেখ রাসেল রাজধানীর ‘ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল’-এ পড়াশোনা করত। হঠাৎ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক দল খারাপ কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার ষড়যন্ত্র করে। ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে শিশু শেখ রাসেলসহ বঙ্গবন্ধু ও তার পুরো পরিবারকে হত্যা করে তারা। সৌভাগ্যক্রমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোন সেই সময় জার্মানিতে ছিলেন।

জার্মানিতে যাওয়ার প্রস্তুতির সময় তারা শেখ রাসেলকে সঙ্গে নিতে চেয়েছিলেন। তবে তাদের মা অনুমতি দেননি। এ কারণে শুধু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তার ছোট বোন জার্মানি যান। যদিও আমার বয়স মাত্র ৯ বছর তারপরও আমি বুঝতে পারছি, যদি শেখ রাসেলকে তার মা যাওয়ার অনুমতি দিতেন তিনি কতোই না সৌভাগ্যবান হতেন। ছোট ভাইয়ের জন্মদিনে যখন সবাই তাকে ‘সারপ্রাইজ’ দিত তখন শেখ রাসেলের চোখে মুখে আনন্দ দেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও কতটা সুখী হতেন।

আমি বুঝতে পারি, ভালবাসার মানুষকে হারানোর বেদনা কতটা কঠিন। কারণ, আমার বাবা তার বাবাকে, আমার মা তার মা ও বাবাকে এবং আমি আমার দাদা, নানা, নানী ও তিন চাচাকে হারিয়েছি। তবে আমি যাদেরকে হারিয়েছি তাদের সঙ্গে আপনার নিজের পরিবারের তুলনা করতে পারি না। আমি এটা ভেবে পাই না, আমার মতো বয়সের একটি শিশুর জন্য এ ধরনের ঘটনা কতটা ভয়ঙ্কর ও আতঙ্কের এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার পুরো পরিবারকে হারিয়ে কতটা কষ্ট অনুভব করেছেন।

রুকায়াত মুজিব রুমাইসার জন্ম ১১ ডিসেম্বর ২০১০ ঢাকা সেনানিবাসে। তিনি মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান ও তাসরিন মুজিবের একমাত্র মেয়ে। সে মহাখালীর বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে পড়তে ভালোবাসে। সাঁতার কাটা ও গান গাওয়া তার শখ।

 

রুকায়াত মুজিব রুমাইসা
২৬ অক্টোবর ২০২০ লিংক

আরও পড়ুন